সাতক্ষীরায় প্রেমিক আব্দুল হালিমের যাবজ্জীবন

August 22, 2022 at 06:21AM
from somoynews.tv | RSS Feed
সাতক্ষীরার তালায় চাঞ্চল্যকর গৃহপরিচারিকা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত করে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে।
রোববার (২১ আগস্ট) এক জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় দেন সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এমজি আযম। সাজাপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল হালিম বিশ্বাস যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার ভাল্লুকঘর গ্রামের খলিল বিশ্বাসের ছেলে। মামলার আরেক আসামি খলিল পলাতক রয়েছেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, আব্দুল হালিম বিশ্বাস ১৯৯৮ সাল থেকে তার মামার বাড়ি তালা উপজেলা সদরের শিবপুরে থাকতেন। অপরদিকে খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার বাসিন্দা ভুক্তভোগী ওই নারী তার নানাবাড়িতে থেকে বিভিন্ন বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন।
২০০১ সালে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০০৩ সালের ২১ জুলাই বিকেলে নানাবাড়ি থেকে বাজারে গুল কিনতে এসে আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। দুদিন পর ২৩ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তালা উপজেলা পরিষদের সামনে মোজাম্মেল হকের বাড়ির পাশের ডোবা থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় ২৮ জুলাই বাদী হয়ে কারও নাম উল্লেখ না করে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন তালা থানার উপপরিদর্শক মশিয়ার রহমান। এ ঘটনায় প্রেমিক আব্দুল হালিমকে গ্রেফতার করে ও রিমান্ডে নেয় পুলিশ।
রিমান্ড শেষে সাতক্ষীরা নালিশি আদালত-খ অঞ্চলের বিচারক ইব্রাহীম খানের কাছে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর কাহিনী তুলে ধরে পুলিশ। জানায়, ওই নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ ডোবার পানিতে ফেলে গুম করার চেষ্টা করেন আব্দুল হালিম। এতে তার সঙ্গে আরও ছিলেন বারুইহাটির হাবিবুর রহমান, জেঠুয়ার মিন্টু, গোনালী নলতার মেহেদী ও ঘোষনগরের খলিল।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে সোনার বার জব্দের মামলায় তিন আসামির কারাদণ্ড
মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা তালা থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুল হাই আব্দুল হালিম ও মোজাম্মেল হকের বাড়ির পাশের ব্যবসায়ী শিবপুর গ্রামের সীতানাথ রায়ের ছেলে পরিমল রায়ের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। কিন্তু আব্দুল হালিম তার ১৬৪ ধারার জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদনে উল্লেখ করেন, তার ওপর নির্যাতন চালিয়ে পুলিশ ওই স্বীকারোক্তি আদায় করে।
২০১৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মামলার শুনানি শেষে বিচারক মোতাজ্জিদুর রহমান মামলাটির পূণঃতদন্তের নির্দেশ দেন। এরপর মামলার শেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা তালা থানার উপ-পরিদর্শক লুৎফর রহমান ২০১৩ সালের ২৪ অক্টোবর পূর্বের অভিযোগপত্র বহাল রেখে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধিত ২০০৩ এর ৯(২) ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। কিন্তু এর আগেই ২০১৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আদালত থেকে জামিন পাওয়ার কয়েক মাস পর আব্দুল হালিম ভারতে পালিয়ে যান।
আরও পড়ুন: বোনকে হত্যার দায়ে ভাইয়ের আমৃত্যু কারাদণ্ড
অবশেষে মামলার ১৬ জন সাক্ষীর জেরা ও জবানবন্দি এবং নথি পর্যালোচনা শেষে পলাতক আসামি আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যা ও মরদেহ গুম করার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। রোববার তার বিরুদ্ধে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধিত ২০০৩ এর ৯(২) ধারায় ও দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন বিচারক এমজি আযম।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আসামি পরিমল রায়কে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। খালাস পাওয়ার পর আদালতের বারান্দায় পরিমল রায় বলেন, তাকে বিনা অপরাধে ১৯ বছর আদালতে আসতে হয়েছে। এরপরও ন্যায়বিচার হয়েছে বলে খুশি তিনি। এ মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট বসির আহম্মেদ ও অ্যাডভোকেট মনিরউদ্দিন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট জহুরুল হায়দার বাবু।