পাকিস্তানের বোলিং তোপে চাপে ভারত

August 29, 2022 at 05:33AM
from somoynews.tv | RSS Feed
রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে লোকেশ রাহুল। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ভারতকে চালকের আসনেই রেখেছিল বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা। দুজনকেই সাজঘরে ফিরিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন মোহাম্মদ নেওয়াজ। এরপর নাসিম শাহ এসে সূর্যকুমার যাদবকে ফিরিয়ে চাপে ফেলেন ভারতকে।
রোববার (২৮ আগস্ট) দুবাইয়ে এশিয়া কাপের গ্রুপ ‘এ’র ম্যাচে পাকিস্তানের দেয়া ১৪৮ রান তাড়া করতে নেমে ১৫ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ ৪ উইকেট হারিয়ে ৯৭ রান। ব্যাট হাতে ক্রিজে রবীন্দ্র জাদেজা ও হার্দিক পান্ডিয়া।
ভারত শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন নাসিম শাহ। রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ১ রানে লোকেশ রাহুলের উইকেট হারায় ভারত। অভিষিক্ত নাসিম শাহের করা বলটি রাহুলের ব্যাটে ইনসাইড এজ হয়ে স্টাম্প স্পর্শ করে। একই ওভারে বিরাট কোহলিও ফিরে যেতে পারতেন প্যাভিলিয়নে, যদি না গালি সেকেন্ড স্লিপে দাঁড়ানো ফখর জামান ক্যাচটি মিস করতেন।
দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৪৯ রান তুলে ভারতকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছিলেন কোহলি-রোহিত। এরপর আক্রমণে নেওয়াজ এসে ম্যাচটি ঘুরিয়ে নিলেন ১৮০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে। নেওয়াজের করা ইনিংসের অষ্টম ওভারের শেষ বলটি লং অফের ওপর দিয়ে তুলে মারতে গিয়ে রোহিত ধরা পড়েন ইফতিখারের হাতে। ১৮ বলে ১২ রান করে ফেরেন রোহিত।
রোহিত-কোহলিকে হারিয়ে চাপে পড়া ভারতকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন সূর্যকুমার। ইনিংসের ১৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে নাসিমের করা সিম আপ ডেলিভারি, পড়ার পর একটু ঘুরে ভেতরের দিকে ঢুকল তীক্ষ্ণভাবে। আড়াআড়ি খেলার চেষ্টা করা সূর্যকুমারের ব্যাট ফাঁকি দিলে বল হিট করে অফ স্টাম্পে। ১৮ বলে ১৮ রান আসে তার ব্যাট থেকে।
মাঝে এক ওভার বিরতি দিয়ে ফের পরের ওভারের প্রথম বলে বিরাট কোহলিকে ফেরান নেওয়াজ। জায়গা বানিয়ে তুলে মারতে গিয়ে ধরা পড়েন কোহলিও। লং অফে আবারও ইফতিখার আহমেদের হাতে ক্যাচ যায়। ৩৪ বল মোকাবিলায় ৩ চার ও এক ছক্কায় ৩৫ আসে কোহলির ব্যাট থেকে।
এরপর নেওয়াজ দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন হ্যাটট্রিকের সামনে, তবে সূর্যকুমার যাদব তেমন কিছু হতে দেননি।
আরও পড়ুন: খরায় থাকা কোহলির গর্বের সেঞ্চুরি
এর আগে সব কটি উইকেট হারিয়ে ১৪৭ রান করে পাকিস্তান। যেখানে শেষ চার ব্যাটারের অবদান তিরিশেরও বেশি। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারতের দুই পেসার ভুবনেশ্বর কুমার ও আর্শদীপ সিংয়ের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রথম দুই ওভারে ১৪ রান তুলে বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের উদ্বোধনী জুটি।
ভুবনেশ্বর নিজের প্রথম ওভারে দেন ৬ রান। আর্শদীপ দুটি ওয়াইডসহ প্রথম ওভারে দেন ৮ রান। পরের ওভারে বাবর আজমকে শিকারে পরিণত করেন ভুবনেশ্বর। শর্ট বল খেলতে গিয়ে ফাইন লেগে ক্যাচ তুলে দেন পাকিস্তান অধিনায়ক। ১০ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি।
পাওয়ার প্লেতে ৪৩ রান তোলে পাকিস্তান। এর মধ্যে আরেকটি উইকেট হারিয়ে ফেলে বাবর বাহিনী। এবারও কাল হয়ে দাঁড়ায় শর্ট বল। আভেশ খানের ছোড়া বলে ব্যাট লাগিয়ে মাঠ ছাড়েন ফখর জামান। তার ক্যাচটি ধরেন উইকেটরক্ষক দিনেশ কার্তিক।
দুই ব্যাটার আউট হয়ে গেলেও হাল ধরে রেখেছিলেন ওপেনার রিজওয়ান। যদিও ১০ ওভার শেষে তার স্ট্রাইকরেট ছিল একশরও নিচে। ১০ ওভার শেষে পাকিস্তানের দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬৮।
আরও পড়ুন: সাকিব নয়, তবে হরভজনের পছন্দের বাংলাদেশি ক্রিকেটার কে?
১১ আর ১২, এই দুই ওভারে ১৯ রান তোলে পাকিস্তান। ১৩তম ওভারের প্রথম বলেই আউট হন ইফতেখার। হার্দিক পান্ডিয়ার শর্ট বলে তিনিও ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে। আউট হওয়ার আগে ২২ বলে ২ চার ও এক ছয়ে ২৮ রান করেন তিনি।
হাল ধরে রাখা রিজওয়ান আউট হন অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে। পান্ডিয়ার বলে থার্ডম্যান অঞ্চলে আভেশ খানকে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। ৭ রানের জন্য হাফসেঞ্চুরি মিস করেন তিনি। ৪২ বলে করেন ৪৩ রান। পান্ডিয়া একই ওভারে তুলে নেন খুশদিল শাহের উইকেট। শাহ করেন মাত্র ২ রান।
এশিয়া কাপকে সামনে রেখে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫০টির মতো ছক্কা মারার অনুশীলন করেছিলেন মোহাম্মদ আসিফ। দুবাইয়ের উইকেটে এদিন তিনিও মেলে ধরতে পারেননি নিজেকে। ৭ বলে খেলে ৯ রান করে আউট হন এ হার্ডহিটার। নেওয়াজ ৩ বলে ১ রান করে বিদায় নেন। তার উইকেটটি শিকার করেন আর্শদীপ সিং।
ভুবনেশ্বরের বলে রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি অলরাউন্ডার শাদাব খান। নাসিম শাহ ফেরেন গোল্ডেন ডাক দিয়ে। শেষ দিকে দাহানি ঝড়ের পর পাকিস্তান অলআউট হয় ১ বল বাকি থাকতে। ৬ বলে ১৬ রান করে আউট হন তিনি। হারিস রউফ অপরাজিত ছিলেন ১৩ রান নিয়ে। ভারতের হয়ে ভুবনেশ্বর কুমার নেন ৪ উইকেট। ৩টি উইকেট পান পান্ডিয়া। আর্শদীপ ২টি ও আভেস একটি উইকেট নেন।