বর্তমান পরিস্থিতি এবং রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত সমাধান

August 06, 2022 at 05:02AM
from somoynews.tv | RSS Feed
দ্য হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস) গত ২২ জুলাই ২০২২ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের অভিযোগে গাম্বিয়ার করা মামলায় মিয়ানমারের প্রাথমিক আপত্তি খারিজ করে দিয়েছে। রায় অনুযায়ী, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে করা মামলাটি চলবে। আদালত খুঁজে পেয়েছে যে, ১১ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে গাম্বিয়ার দায়ের করা আবেদনটি গণহত্যা কনভেনশনের নবম ধারার ভিত্তিতে, যেখানে আদালতের এখতিয়ার রয়েছে এবং ওই আবেদনটিও গ্রহণযোগ্য ছিল। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে মিয়ানমারের দেয়া আপত্তিটি ছিল ওই মামলাটিতে আইসিজের এখতিয়ার এবং গাম্বিয়ার আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে। রায়ে আগামী বছরের ২৪ এপ্রিলের মধ্যে মিয়ানমারকে পাল্টা যুক্তি জমা দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে। হয়তো ২০২৪ সালের মধ্যে আইসিজে তার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করতে পারেন।
বাংলাদেশ ওই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্বাস করে যে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার প্রশ্নটি রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে এবং রোহিঙ্গাদের তাদের বৈধ অধিকার প্রতিষ্ঠিত করে নিজেদের আবাসে টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি আস্থা সৃষ্টির পদক্ষেপ হিসাবে প্রমাণিত হবে। বিশ্লেষক ও অধিকারকর্মীদের মতে, আইসিজে-এর এই রায় রোহিঙ্গাদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি জোরালো করার জন্য বিশ্বকে একটি নতুন সুযোগ এনে দিতে পারে।
এদিকে প্রায় একই সময় মিয়ানমারের জান্তা সরকার দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সাজানো নাটকে চারজন রাজনৈতিক বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। মিয়ানমারে গণতন্ত্র রক্ষায় এদের আপসহীন ভূমিকাই জান্তা সরকারের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এদের মধ্যে কারারুদ্ধ নেত্রী অং সান সুচির দলের একজন সাবেক সংসদ সদস্যও ছিলেন। এ নিয়ে সারা বিশ্বে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
ওই চারজন গণতন্ত্রী কর্মীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ায় দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংগঠন আসিয়ানের বর্তমান সভাপতি কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন মিয়ানমারের জান্তা সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি একে হত্যা হিসেবে অভিহিত করে বলেন যে, ওই কর্মকাণ্ড মিয়ানমারে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আসিয়ানের পরিকল্পনার প্রতি তাদের সদিচ্ছার অভাবকেই প্রকাশ করেছে। তিনি আসিয়ানের সকল সদস্যকে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য আহ্বান জানান।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেদেশে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ওই চার রাজনৈতিক বন্দিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার প্রতিবাদ জানায়। ফ্রান্স সরকার রাষ্ট্রদূতকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে মিয়ানমারের সামরিক সরকার এ ধরণের সহিংসতা বন্ধ করবে, গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে আটক সকলকে মুক্তি দেবে এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনার পথ উন্মুক্ত করবে। মিয়ানমারের নিকটতম প্রতিবেশী ভারত নিন্দা প্রকাশ করে মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি পূর্ণ সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছে। জি-৭ সদস্যরাও মিয়ানমারের নেতৃবৃন্দকে নির্বিচারে মৃত্যুদণ্ড দেয়া থেকে বিরত থাকার, সব রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিতে এবং দেশকে গণতান্ত্রিক পথে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছে।
এ মাসের শুরুতেই মিয়ানমারের জরুরি অবস্থার মেয়াদ ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে দেশটির জান্তা সরকার। ‘দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আরো সময় প্রয়োজন’ উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। জান্তাপ্রধান ও দেশটির স্বঘোষিত প্রধানমন্ত্রী মিন অং হ্লাইং নিজের ক্ষমতার মেয়াদ আরো ছয় মাস বাড়ানোর জন্য সামরিক সরকারের কাছে অনুরোধ করেন। তার এই আনুষ্ঠানিকতাসর্বস্ব অনুরোধে সর্বসম্মতিক্রমে সায় দিয়েছে জান্তা নিয়ন্ত্রিত সরকারের জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা পরিষদ। তবে জরুরি অবস্থার মেয়াদ যে ভবিষ্যতে আবারও বাড়ানো হবে না সে নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না। মিয়ানমারের ইতিহাস সে কথাই বলে।
কম্বোডিয়ার নমপেনে চলমান ৫৫তম আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের চার রাজনৈতিক কর্মীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার ঘটনার সমালোচনা করা হয়। তারা মিয়ানমারকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আসিয়ানের ইতোপূর্বে গৃহীত ৫-দফা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জান্তা সরকারের কোনো অগ্রগতি নেই বলে উল্লেখ করে। কোনো কোনো সদস্য আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য শীর্ষ সম্মেলনসহ অন্যান্য সভাগুলোতে জান্তা সরকারের মন্ত্রীদের অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ও উত্থাপন করে।
আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ওই সভায় মার্কিন ও চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। অন্যান্য বিষয় ছাড়াও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমার সমস্যা উত্থাপন করতে পারেন। এ প্রসঙ্গে তিনি মিয়ানমারের সামরিক সরকার কর্তৃক রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যার বিষয়টি প্রাধান্য দিতে পারেন এবং আসিয়ানকে মিয়ানমার সমস্যার সমাধানের প্রচেষ্টাকে দ্বিগুণ করাসহ গণতন্ত্রে ফিরে আসার লক্ষ্যে জান্তা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য অনুরোধ করতে পারেন। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের বৈঠকে যোগ দিতে ৫-৬ আগস্ট ওখানে থাকবেন এবং সেসময় অন্যান্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে কথা বলার সুযোগ পাবেন।
গত জুনে রুয়ান্ডার কিগালিতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের বৈঠকের সময় আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ট্রাসকে রোহিঙ্গা সংকট এবং মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়ায় অচলাবস্থা সম্পর্কে অবহিত করেন। মিয়ানমার সরকারের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির অনুপস্থিতিতে, ট্রাস রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে যুক্তরাজ্যের অব্যাহত প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন যে আসিয়ান এবং সহযোগী জি-৭ দেশগুলোর সাথে যুক্তরাজ্য রোহিঙ্গাদের একটি টেকসই সমাধানের জন্য মিয়ানমারের উপর চাপ বাড়াবে। এদিকে, আগামী ৬ আগস্ট চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে আসছেন। স্পষ্টতই ওই সফরে রোহিঙ্গা ইস্যুটি উত্থাপিত হবে, কারণ এতে চীনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
আরও পড়ুন: একটা ভয় পিছু ছাড়ছে না?
উল্লেখ্য যে, ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর রোহিঙ্গা অধ্যুষিত মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ৯ জন পুলিশ নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা নিধন শুরু করে। ওই অবস্থায় জীবন বাঁচাতে ২০১৭ সালের ২৪ আগস্ট মধ্যরাত থেকে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে বাংলাদেশে ঢুকতে থাকে। বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ১১ লক্ষ ছাড়িয়ে যায়। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি বৈঠকের পরপরই ২ অক্টোবর অং সান সুচির দফতরের একজন মন্ত্রী ঢাকা সফরে আসেন এবং রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তারই ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ২৩ নভেম্বর রোহিঙ্গাদেরকে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের জন্য ১৬ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে দুদেশ 'ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট'-এর একটি দলিল স্বাক্ষর করে। সেই প্রেক্ষিতে, ২০১৮ সালের মধ্য-নভেম্বরে রোহিঙ্গাদের প্রথম দলটি ফিরে যাবার কথা থাকলেও যাওয়া হয়নি। পুনরায় ২০১৯ সালের ২২ আগস্ট প্রত্যাবাসনের দিন ধার্য করেও কার্যকর করা যায়নি। এরই মধ্যে সু চি সরকারকে বিদায় করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করলে রোহিঙ্গা সমস্যা অনেকটাই গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে। অন্যদিকে, করোনা মহামারি বিষয়টি নিয়ে আলোচনার গতিকে ব্যাহত করে।
প্রত্যাবাসনের এই অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের মধ্যে হত্যা, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, চোরাচালান, অস্ত্রের মহড়া, পতিতাবৃত্তি, অপহরণ, ইত্যাদি নানা অপকর্ম ও অসামাজিক কাজকর্মে জড়িত থাকার ঘটনা ঘটছে।
আমাদের মনে আছে, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে রোহিঙ্গা নেতা মহিবুল্লাহ রোহিঙ্গা আততায়ীর হাতে নিহত হয়। তখন এমনও শোনা গেছে যে, মিয়ানমারের কারিগররা দিনের বেলা মিয়ানমার সীমান্তের কাছাকাছি পাহাড়ে লুকিয়ে থাকে এবং রাতের অন্ধকারে তারা বিভিন্ন রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর জন্য আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে সরবরাহ করে। এসব আগ্নেয়াস্ত্র আমাদের লোকজনের কাছে যে পৌঁছাচ্ছে না তা কে জানে।
এইতো গত সপ্তাহে কক্সবাজারের টেকনাফের দুর্গম পাহাড় থেকে দুই ব্যক্তিকে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা অপহরণ করেছে বলে জানা গেছে। তাদের জন্য মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছে। তাদের উদ্ধারে টেকনাফ থানার পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর আগে আরও দুজনকে ওই এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়। বলতে গেলে ওই এলাকায় এ ধরণের ঘটনা প্রায়শই ঘটে থাকে। সেদিন হয়তো বেশি দূরে নয় যেদিন অধিকাংশ রোহিঙ্গা, বিশেষ করে যুবকরা, জঙ্গিবাদ আর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। তখন তার খেসারত শুধু বাংলাদেশই দেবে না, তার প্রভাবে সমগ্র ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলের শান্তিই বিঘ্নিত হবে।
ফ্রান্স সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্যারিস পিস ফোরাম, ২০২১ আয়োজিত ‘মাইন্ডিং দ্য গ্যাপ:ইমপ্রুভিং গ্লোবাল গভর্ন্যান্স আফটার কোভিড-১৯’ আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন এবং রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ যে সুরক্ষা ঝুঁকিতে রয়েছে তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সঙ্কট থেকে উদ্ভূত সুরক্ষা ঝুঁকিগুলো কেবল আমাদের সীমান্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমরা ইতোমধ্যেই এর লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি।’ জানি না শেখ হাসিনার ওই কথাগুলো বিশ্বনেতাদের কর্ণকুহরের কতটা গভীরে প্রবেশ করেছিল। তবে, যেভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিস্তার লাভ করছে, তা ইতোমধ্যেই ক্যাম্পগুলোর চৌহদ্দি পেরিয়ে গেছে এবং যতই রোহিঙ্গা প্রত্যবাসন বিলম্বিত হবে ততই তা ভয়াবহ হয়ে উঠবে এবং একসময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে, তাতে সন্দেহ নেই। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অপেক্ষা না করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে রোহিঙ্গারা সন্ত্রাস আর বেআইনি কাজ করার কোনো দরজা খোলা না পায়। আর এ কাজটি করার জন্য নেতৃস্থানীয় রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা অবশ্যই নিতে হবে। যতদিন না তাদের প্রত্যবাসন প্রক্রিয়া সমাপ্ত হয়, ততদিন সতর্ক থাকতে হবে এবং নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হবে।
করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় এ বছর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনায় গতি ফিরে আসবে বলে আশা করা যায়। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায় মিয়ানমারের জান্তা সরকারের ওপর অবশ্যই প্রভাব ফেলবে। মিয়ানমারের ওপর আসিয়ানের সদস্য দেশগুলোর চাপ অব্যাহত থাকলে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য মিয়ানমার অনেকটাই এগিয়ে আসতে বাধ্য হতে পারে। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চাপ তো রয়েছেই। সার্বিক পরিস্থিতি বিচার-বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশকেও এসব সুযোগের সদ্ব্যবহার করার যথাযথ কূটকৌশল অনুসরণ করতে হবে। তবে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা গেলেও কতজন রোহিঙ্গা কতদিনে নিজ গৃহে ফিরে যেতে পারবেন তার উত্তর খুবই দীর্ঘ হবে এবং তা অনেকটাই নির্ভর করবে মিয়ানমারের পরিস্থিতির ওপর।
লেখক-সাবেক সচিব ও সাবেক রাষ্ট্রদূত।
]]>