বগুড়ায় নকল সন্দেহে ৭ ট্রাক টিএসপি সার আটক

August 30, 2022 at 06:28AM
from somoynews.tv | RSS Feed
বাংলাদেশ রসায়ন শিল্প সংস্থার (বিসিআইসি) বগুড়ার বাফারে গুদামজাত করার আগে নকল সন্দেহে ৭ ট্রাক সার আটক করা হয়েছে। এসব ট্রাকে ৯৮ হাজার কেজি টিএসপি সার রয়েছে বলে জানিয়েছে বাফার কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (২৯ আগস্ট) সকালে কয়েক বস্তা সারের মান পরীক্ষার পর সন্দেহ হলে ট্রাকগুলো আটক করা হয়। সোমবার সন্ধ্যায় বগুড়া বাফার গুদামের ইনচার্জ মোহাম্মদ মোস্তাফা কামাল এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
বাফার সূত্র বলছে, রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গার টিএসপি সার কারখানা থেকে এই ৭টি ট্রাক বগুড়ায় পৌঁছায়। ট্রাকগুলো ৯৮ হাজার কেজি টিএসপি সার আসে। প্রতিটি ট্রাকে ২৮০ টি বস্তা সার রয়েছে। সোমবার সকালে ট্রাক থেকে ২৪ বস্তা সার নামানো হয় পরীক্ষার জন্য। এ সময় সারগুলো নকল ও ভেজাল মনে হয় কর্তৃপক্ষের কাছে। এরপর সারসহ সাতটি ট্রাক আটক করে রাখা হয়।
মোস্তফা কামাল বলেন, বিষয়টি চট্টগ্রাম টিএসপি সার কারখানা কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। আগামীকাল মঙ্গলবার সারগুলো ভালোভাবে পরীক্ষার জন্য একটি টিম আসবে। তারা আসলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। সারগুলোর পরিবহন করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমএইচআর করপোরেশন।
চট্টগ্রাম থেকে আসা ট্রাকচালক আব্দুল আউয়াল জানান, শনিবার পতেঙ্গার টিএসপি সার কারখানা থেকে সাতটি ট্রাকে সার লোড করা হয়। সেই সার নিয়ে রোববার রাত ২ টা থেকে ৩ টার দিকে বগুড়া বাফার গুদামে পৌঁছাই। সকালে এখানকার কর্মকর্তারা নকল সন্দেহে ট্রাকগুলো আটকে রেখে দেন।
একই কথা বলেন আব্দুল করিম নামে আরেক ট্রাকচালক। তিনি বলেন, ট্রাক আটক করার কারণে আমরাও এখানে বসে আছি। তবে সার পরিবহন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করা যায়নি।
আরও পড়ুন: বগুড়ায় ইউটিউবারকে জীবন্ত ‘কবর’
দেশে কৃষকদের জন্য সার উৎপাদনের পাশাপাশি ঘাটতি পূরণে সার আমদানি করে থাকে বিসিআইসি। দেশের ২৪ টি বাফার গুদামের একটি বগুড়ার তিনমাথা এলাকায় অবস্থিত। এর ধারণক্ষমতা ১২ হাজার মেট্রিক টন। বিদেশ থেকে আমদানি করা সার এখানে সংরক্ষণ করা হয়। বগুড়ার সার আসে সাধারণত সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি, খুলনা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন নৌ-বন্দর থেকে। বগুড়ার সার নিয়ে আসা হয় বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।
নিয়ম অনুয়ায়ী, পরিবহন ঠিকাদারের মাধ্যমে গুদামে আসা সার সম্পূর্ণ বুঝিয়ে দিলে গুদামের ইনচার্জ তাদের (ঠিকাদার) ম্যাটেরিয়াল রিসিভ রিপোর্ট দিবেন। এই রিপোর্ট দেখিয়ে পরিবহন ঠিকাদারা তাদের প্রাপ্ত টাকা বুঝে নেবেন। এরপর বগুড়া গুদাম থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সার সরবরাহ করা হয়।