মমতার সভা ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে সাজ সাজ রব


July 21, 2022 at 06:00AM
from somoynews.tv | RSS Feed

তৃণমূল কংগ্রেসের একটি রাজনৈতিক সভা ঘিরে গোটা পশ্চিমবঙ্গজুড়েই সাজ সাজ রব উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) ‘শহিদ স্মরণ’ শিরোনামে এই অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা দলটির প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ধর্মতলার ডরিনা ক্রসিংয়ে আয়োজিত সভায় অন্তত ১০ লাখ মানুষ সমবেত হবেন বলে ধরে নেয়া হচ্ছে। কেন এই রাজনৈতিক সভায় ঘিরে এত উন্মাদনা; সেটা জানতে একটু পেছন ফিরে তাকাতে হবে বৈকি।

সালটা ১৯৯৩। ২১ জুলাই, দুপুর। তখনকার যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় মহাকরণ অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু প্রশাসনের স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে করা সেই মিছিলে আচমকাই গুলি চালায় বাম সরকারের পুলিশ। ঘটনাস্থলে ১৩ যুব কংগ্রেসকর্মী নিহত হন। নির্মমভাবে পুলিশি অত্যাচারের শিকার হন মমতাও।

২০০০ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস নামে নিজেই দল গঠন করেন মমতা। এরপর থেকে প্রতি বছর নিময় করে ২১ জুলাই শহিদ স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করছে তার দল। তবে ২০১১ সালের পর থেকেই সেই শহিদ স্মরণ অনুষ্ঠানটি মূলত মমতার প্রধান রাজনৈতিক সভা হিসাবে পরিচিতি লাভ করতে থাকে।

আরও পড়ুন: মোদি বিরোধীদের লক্ষ্য ২০২৪, মহাজোটে নতুন মুখ কে?

এদিনের সভায় দাঁড়িয়ে মূলত রাজ্যের এবং ভারতের তৃণমূলবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে চরম হুঙ্কার ছোড়েন মমতা। আর সেই হুঙ্কার শুনতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ নেতাকর্মী ও সমর্থক ধর্মতলার এই মঞ্চের সামনে উপস্থিত হন।

২১ জুলাই মমতার রাজনৈতিক সভায় বড় চমক থাকে নতুন কারও তৃণমূলে যোগদান করা কিংবা বিজেপির বিরুদ্ধে নতুন স্লোগান তোলা। এছাড়াও একঝাঁক তারকাও সভায় দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকেন। ২০২০ সাল থেকে করোনার কারণে ভার্চ্যুয়াল সভায় সীমাবদ্ধ ছিল একুশের সভা। ২০২১ সালে বিপুল জয়ের পরেও এভাবে ঢাকঢোল পিটিয়ে সভা করা হয়নি।

যে কারণে ২০২১ সালের বিধানসভায় তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় ফিরে আসার উচ্ছ্বাসও এদিন প্রকাশ করবেন তৃণমূল নেত্রী। এমনটিই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

কলকাতা পুলিশের হিসেব বলছে, ধর্মতলা ছাড়াও কলকাতা প্রবেশের ১১টি পথেই হাজার হাজার তৃণমূল সমর্থক উপস্থিত থাকবেন। প্রায় ৫ হাজার পুলিশকর্মী এদিন কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।

কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলার চারপাশে মুড়ে দেয়া হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। নিরাপত্তায় নজরদারি চালানো হবে পুলিশের বিশেষ ড্রোন ক্যামেরায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সন্ধ্যার কিছু আগে নিজেই সভামঞ্চ ঘুরে দেখেন। মঞ্চের তলায় বসে নেতাকর্মীদের নিয়ে চা পান করেন। তবে মমতার এই রাজনৈতিক সভা ঘিরে বেশ কয়েকটি জনস্বার্থ মামলা হয়েছে আদালতে।

আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গ বিজেপিতে ভাঙনের সুর

চলমান করোনার বাড়বাড়ন্তের মধ্যেই এই ধরনের একটি রাজনৈতিক সভা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। বিশেষ করে বিজেপি এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।

রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের নীতি আদর্শ নেই। তারা মানুষের জন্য রাজনীতি করে না। লুটের রাজনীতি করে। তাই এই ধরনের একটি শহিদ স্মরণ অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রচার করছে। কংগ্রেস এবং বামফ্রন্টও এই সভার তীব্র নিন্দা করেছে।

]]>
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url