পানিতে ডুবে মরল ছোট্ট মোহাম্মদ ও সুমাইয়া

August 01, 2022 at 05:51AM
from somoynews.tv | RSS Feed
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে আলাদা স্থানে পানিতে ডুবে শিশু সুমাইয়া আক্তার (৭) ও মোহাম্মদ হোসেন নামে দেড় বছরের শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৩১ জুলাই) বিকেলে উপজেলার সুবিদপুর গ্রামের সুবিদপুর উত্তর পাড়া রফিকুল ইসলাম মজুদারের বাড়ির পাশে পুকুরে পানিতে ডুবে সুমাইয়া আক্তার মারা যায়। অপরদিকে হাজীগঞ্জ পৌরসভার টোরাগড় গ্রামের সুলতান সর্দার বাড়ির শরিফ হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ হোসেন পুকুরের পানিতে ডুবে মারা যায়।
সুমাইয়া আক্তার সিলেট জেলার মোহাম্মদ রুমনের মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে তার বাবা ও মায়ের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার পর শিশুটি তার নানা বাড়ি সুবিদপুর গ্রামের জালাল উদ্দিন বেপারি বাড়িতে বসবাস করতো।
জানা গেছে দুপুরে সুবিদপুর উত্তর পাড়া মজুমদার বাড়ির পাশের পুকুরে সমবয়সী তানজিনা, জান্নাত ও সিয়ামসহ অন্যান্য ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে শাপলা তুলতে যায় সুমাইয়া। এরপর শিশুটি পুকুরের পানিতে ডুবে গেলে স্থানীয়রা সুমাইয়াকে উদ্ধারের চেষ্টা করে। কিন্তু তাকে খুঁজে না পেয়ে জাতীয় জরুরি নম্বর ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
আরও পড়ুন: পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু প্রতিরোধে সাকিবের সতর্কবার্তা
এর আগে হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে খবর দেন। খবর পেয়ে নৌ-ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের ডুবুরি দলের সদস্য রাজিব হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় শিশু সুমাইয়াকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।
এরপরেই খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ মরদেহ থানা হেফাজতে নিয়ে গেলে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার সাজেদুল কবির জোয়ার্দার বলেন, আমাদের সহযোগিতায় চাঁদপুর নৌ-ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি শিশু সুমাইয়াকে মৃত অবস্থায় পুকুর থেকে উদ্ধার করে।
অপরদিকে বিকেলে হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন টোরাগড় গ্রামের সুলতান সর্দার বাড়ির শিশু মোহাম্মদ হোসেন পরিবারের সবার অগোচরে নিজ বাড়ির পুকুরের পানিতে ডুবে যায়। শিশুটি খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। এ সময় পরিবারের লোকজনের খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে নিজ বাড়ির পুকুরে থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎস শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটির চাচা রাজন সর্দার জানান, খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ ইউনুস শিশুটির মরদেহ পুলিশি হেফাজতে নেয়। পরে পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে পুলিশ ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. গোলাম মাওলা জানান, শিশু মোহাম্মদ হোসেনকে আমরা মৃত অবস্থায় পেয়েছি।