সীতাকুণ্ডের অগ্নিকাণ্ডে কারা দায়ী জানাল তদন্ত কমিটি


July 07, 2022 at 05:52AM
from somoynews.tv | RSS Feed

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় ডিপো কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি তদারকি প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করে ২০টি সুপারিশ করেছে বিভাগীয় কমিশনারের তদন্ত কমিটি।

বুধবার (৬ জুলাই) বিকেলে বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে ১৩ সদস্যদের তদন্ত কমিটি ঘটনার এক মাস পর প্রতিবেদন জমা দেয়।


১৯ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে ডিপো কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ, শিপিং লাইন, ফায়ার সার্ভিসসহ নানা সংস্থার গাফিলতি পায় তদন্ত কমিটি। ডিপোর আইন সংশোধনসহ দেয়া হয় ২০টি সুপারিশ। হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড থেকে আগুন লেগেছে বলে নিশ্চিত করেছে তদন্ত কমিটি।


কমিটির প্রধান মিজানুর রহমান বলেন, ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনার কারণ, দায়-দায়িত্ব নিরূপণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সুপারিশ প্রণয়নের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল তাদের ওপর। সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তারা তদন্ত করেছেন।


কমিটির প্রতিবেদনে ২০টি সুপারিশ রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, 'আমরা দুর্ঘটনাস্থলে সরেজমিনে গিয়েছি এবং কারা এর জন্য দায়ী তা নির্ধারণের চেষ্টা করেছি। এটাকেই চূড়ান্ত বলা যাবে না। এ ঘটনায় বৃহত্তর তদন্তও হতে পারে।'


আরও পড়ুন: বিএম ডিপোতে আগুন: আরেকজনের দেহাবশেষ উদ্ধার


মিজানুর রহমান বলেন, 'হাইড্রোজেন পার অক্সাইডই ডিপোতে আগুনের উৎস। দুর্ঘটনার জন্য ডিপো মালিক কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে পারে না। এছাড়া তদারকির দায়িত্বে থাকা দফতরগুলোও দায় এড়াতে পারেন না।'


বিভাগীয় কমিশনার আশরাফ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, দুর্ঘটনার পর সরকারের নির্দেশে এ তদন্ত কমিটি করা হয়। এ প্রতিবেদন মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে। সেখান থেকে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ হবে।


গত ৪ জুন রাতে সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে আগুন লাগার পর একের পর এক বিস্ফোরণে তা ছড়িয়ে পড়ে। ডিপোতে থাকা রাসায়নিকের কারণে ছড়িয়ে পড়া ওই আগুন ৮৬ ঘণ্টা পর বিভিন্ন বাহিনীর চেষ্টায় নেভানো হয়।


ওই ঘটনায় এ পর্যন্ত অর্ধশত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ। অগ্নিকাণ্ডের এক মাস পর বুধবারও সেখান থেকে পোড়া হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়েছে। এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে।


আরও পড়ুন: আগুন লাগার পর পালিয়ে যান বিএম ডিপোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা!


অগ্নিকাণ্ডের পর বিভিন্ন সংস্থার পরিদর্শনে ওই ডিপোতে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড থাকার বিষয়টি উঠে আসে। বিএম ডিপোর মূল প্রতিষ্ঠান স্মার্ট গ্রুপের সহযোগী আল রাজী কেমিকেল কমপ্লেক্স থেকে এসব রাসায়নিক বিদেশে রফতানির জন্য সেখানে রাখা ছিল।


ডিপো কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে ৪ হাজার ৪০০ এর মত কন্টেইনার ছিল। এর মধ্যে অন্তত ৪০০ কন্টেইনার ধ্বংস হয়েছে বলে সে সময় তথ্য দিয়েছিলেন উদ্ধারকর্মীরা।

]]>
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url