দক্ষিণ কোরিয়ায় স্কুলে ভর্তির বয়স নিয়ে বিতর্ক

August 01, 2022 at 05:31AM
from somoynews.tv | RSS Feed
দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির বয়স ছয় থেকে পাঁচ বছরে নামিয়ে আনতে চায় দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশের বয়স পাঁচ বছর করার সরকারি এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা, যা স্থানীয়দের মাঝে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
শুক্রবার (২৯ জুলাই) দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলের সঙ্গে এক আলোচনায় শিক্ষামন্ত্রী পার্ক সুন-এ বলেন, আমরা স্কুলে প্রবেশের বয়স কমিয়ে পাঁচে নামিয়ে আনতে চাই এবং এর মাধ্যমে শিশুদের এক বছর আগে প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করার অনুমতি দেয়া হবে। এতে অভিভাবকদের ওপর শিক্ষা ব্যয়ের চাপ অনেকটাই লাগব হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, স্কুলে ভর্তির বয়স পরিবর্তন করা দ্রুত ক্রমহ্রাসমান জন্মহার এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে শ্রমশক্তির ঘাটতি মোকাবিলায় সাহায্য করতে পারে। কারণ এতে শিক্ষার্থীরা কলেজ স্নাতক দ্রুত শেষ করে তাদের কর্মজীবন শুরু করতে পারবে।
পরে প্রেসিডেন্ট ইউন এ প্রস্তাবে সম্মতি দেন এবং পার্ককে যত দ্রুত সম্ভব এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার নির্দেশনা দেন।
এ বিষয়ে মতামত সংগ্রহের জন্য আগামী সেপ্টেম্বরে ২০ হাজার শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের ওপর একটি জরিপ শুরু করবে কর্তৃপক্ষ। যদি তারা সামাজিক ঐকমত্যে পৌঁছায় তাহলে ২০২৫ সালের মধ্যে ধীরে ধীরে ভর্তির বয়স পাঁচ বছর করা হবে।
আইনটি বাস্তবায়িত হলে ১৯৪৯ সালে শিক্ষা আইন প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৭৬ বছরের মধ্যে এটি হবে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির বয়সের ক্ষেত্রে প্রথম সংস্কার।
সমর্থনের চেয়ে বিরোধিতা বেশি
সরকারি এ প্রস্তাব তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যদিও এ পরিকল্পনাকে সমর্থনকারীরা মনে করেন, ‘স্কুলে একটি বছর বাঁচানো’ দক্ষিণ কোরিয়ায় শ্রমের ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করতে পারে। তবে শিক্ষকদের মধ্যেই বিরোধিতা বেশি।
আরও পড়ুন: বিশ্ব শিক্ষাব্যবস্থায় এগিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া
দক্ষিণ-পশ্চিম সিউলের ইয়াং চিওনের একজন প্রাথমিক শিক্ষক লি দ্য কোরিয়া টাইমসকে বলেন, নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করার আগে স্কুল পাঠ্যক্রম সংশোধন এবং শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দেয়ার মতো অনেক উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য অনেক সময় ও পরিকল্পনার প্রয়োজন।
কোরিয়ান ফেডারেশন অব টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন দেশজুড়ে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার স্কুল শিক্ষকের প্রতিনিধিত্ব করে। সংগঠনটি বলছে, সরকার প্রাথমিক শৈশবে শিশুদের বিকাশের বৈশিষ্ট্যগুলো বিবেচনা করে বলে মনে হয় না।
ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট কিন্ডারগার্টেন পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের স্কুলে পাঠানোকে ‘অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করে বলছে, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে হঠাৎ করেই এমন ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
স্কুল শুরু করার আদর্শ বয়স দেশ অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন হয়। ফিনল্যান্ড, এস্তোনিয়াসহ ৮টি দেশে শিশু শিক্ষার্থীরা সাত বছর বয়সে স্কুল শুরু করে। আবার আয়ারল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যের মতো কিছু দেশ চার বছর বয়সী শিশুদেরও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির অনুমতি দেয়।
]]>