লাশ হয়েও রেহাই নেই, অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটে জিম্মি রোগীর স্বজন

July 28, 2022 at 06:38AM
from somoynews.tv | RSS Feed
পরিবারের কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে নিতে হবে হাসপাতালে। কিংবা কারও স্বজন হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা গেছেন, দ্রুত সৎকারের জন্য মরদেহ নিয়ে যেতে হবে নিজ ঠিকানায়। এমন সময় অ্যাম্বুলেন্স বা মরদেহবাহী গাড়ির উপর নির্ভর করেন রোগী বা নিহতের স্বজনরা। তবে বগুড়ায় স্বজনদের এমন ভঙ্গুর সময়ের ফায়দা লুটে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ বহু পুরানো।
বেকায়দায় পড়ে একরকম বাধ্য হয়েই বেশি টাকায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন ভুক্তভোগীরা। শুধু তাই নয়, বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সমিতির বাইরের কোনো অ্যাম্বুলেন্স রোগী নিতে আসলেও বাধার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ সিন্ডিকেটের বাইরের অ্যাম্বুলেন্স চালকদের।
মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালের সামনে সোনাউল্লাহ নামের এক অ্যাম্বুলেন্স চালক জানান, ‘আমরা ওদের চেয়ে কম টাকায় যাই। মেডিকেল থেকে সারিয়াকান্দি ডেডবডি (মরদেহ) নিতে খুব বেশি হলে ২ হাজার ৫০০ টাকা নিই। ওরা নেয় ৪ হাজার টাকা। কমে (টাকা) পাওয়ায় পার্টি আমাদের সঙ্গে ভাড়া ঠিক করে। কিন্তু মেডিকেলে যাওয়ার পর ওরা মরদেহ তুলতে দেয় না। ঝামেলা করে।’
সেখানে উপস্থিত নজরুল ইসলাম নামের অপর চালক বলেন, ‘৪০ হাজার টাকা দিয়ে সমিতিতে ভর্তি হওয়া লাগবে। না হলে রোগী নিতে দেয় না। গাড়ির সামনে ঝামেলা করে। রোগীর লোকজন এমনিতেই টেনশনে থাকে। তারা ভয় পায়। কিন্তু তারা এখানে এসে ঠিকই ভাড়া নিয়ে যায়।’
আরও পড়ুন: প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে হত্যা, যুবকের মৃত্যুদণ্ড
তবে এমন অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে বগুড়া অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সভাপতি মো. জাকির হোসেন বেবি বলেন, আগে এমন হয়ে থাকতে পারে। তবে ছয় মাস আগে নির্বাচিত কমিটি উভয়পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করে ন্যায্য ভাড়া প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।
উল্টো মেডিকেল কলেজের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকরাই লোক ঠকাচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন সমিতির অন্তর্ভুক্ত অনেক চালক। তারা বলেন, ‘মেডিকেল প্রাঙ্গণের অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার সুযোগে রোগীদের জিম্মি করে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অনেক বেশি ভাড়া আদায় করছে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সগুলো।’
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরাফত ইসলাম বলেন, ‘ভুক্তভোগী কেউই তাদের কাছে অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
বগুড়া অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির দেয়া তথ্য মতে, বগুড়া সদরে সবমিলিয়ে প্রায় ৮০টি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চলাচল করছে।