হজের গুরুত্বপূর্ণ কিছু আমল

June 07, 2022 at 05:04AM
from somoynews.tv | RSS Feed
মুসলিম উম্মাহর ঐক্য-ভ্রাতৃত্বের মহাসম্মেলন হজ। ইসলামের ৫টি স্তম্ভের মধ্যে হজ চতুর্থ, যা অবশ্যই পালনীয়। রোববার (৫ জুন) থেকে হজের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে হজযাত্রীরা। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে চলতি বছরের ৮ জুলাই (৯ জিলহজ) পবিত্র হজ পালিত হবে। তার আগেই হজযাত্রীসহ প্রত্যেক মুসলমানের উচিত এই পবিত্র হজের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইবাদত ও কার্যক্রম সম্পর্কে জানা।
হাজার বছরের স্মৃতিবিজড়িত এ হজের প্রতিটি কার্যক্রমে রয়েছে মানবজাতির সুপ্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্য। মুসলমানদের জন্য এটি একটি ফরজ ইবাদত। কালেমা মুসলমানদের প্রথম ইবাদত। যার দ্বারা সে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে ইসলাম ধর্মে পদার্পণ করে। এরপর নামাজ, রোজা হলো মুসলমানদের জন্য শারীরিক ইবাদত। আর হজ হলো শারীরিক ও আর্থিক ইবাদত। এ জন্য হজ আদায় করা সবার ওপর ফরজ নয়। তবে হজ সম্পর্কে একজন মুসলমানের সব ধরনের ধারণা থাকা উচিত।
আজকে আমরা হজের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইবাদত ও কার্যক্রম নিয়ে আলোকপাত করব।
খোদার রহমত ও নিয়ামত লাভের সুবর্ণ সুযোগ নিয়ে আসে হজের মাস। এ মাসের প্রথম দশক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ দিনগুলোকে রাসুল (সা.) বছরের শ্রেষ্ঠ দিন বলে আখ্যায়িত করেছেন।
আরও পড়ুন: হজের ইহরাম: দুই খণ্ড সাদা কাপড়
রাসুল (সা.) বলেন, ‘এমন কোনো দিন নেই, যার আমল জিলহজ থেকে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়।’
সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! (সা.) আল্লাহর পথে সংগ্রাম-জিহাদও নয়? জবাবে রাসুল (সা.) বললেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদও নয়। তবে যে ব্যক্তি তার জান মাল নিয়ে আল্লাহর পথে যুদ্ধে বের হলো এবং এর কোনো কিছু নিয়েই ফিরে না এলো, (অর্থাৎ যে শাহাদাতবরণ করেছেন) তার কথা ভিন্ন।’ (বুখারি, হাদিস : ৯৬৯)
প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ আল্লামা ইবনে হাজর আস-কালানি (রহ.) তার বুখারি শরিফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল বারিতে উল্লেখ করেছেন, ‘জিলহজের দশকের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণ হলো এতে সব মৌলিক ইবাদতের সন্নিবেশ ঘটে। যেমন-সালাত, সিয়াম, সদকা, হজ ইত্যাদি। অন্য কোনো দিন এতগুলো ইবাদতের সমাবেশ ঘটে না।’ (ফাতহুল বারি : ২/৪৬০)
যারা হজে যাবেন, তারা হজের প্রশিক্ষণ নেবেন এবং কোরআন কারিমের সুরা হজ শুদ্ধ করে শিখবেন এবং সুরা হজের বাংলা অনুবাদ ও তাফসির পড়বেন। হজসংক্রান্ত হাদিস, ফিকাহ ও বিভিন্ন বই-কিতাব পড়বেন। হজের ফাজায়েল ও মাসআলা মাসায়েল ভালোভাবে জানলে সঠিকভাবে হজ পালন করা সহজ হবে।
এ জন্য আমরা দোয়া করতে থাকব, ‘আল্লাহু-মারজুকনা হাজ্জাম-মাবরুরা ওয়া জাম্বাম-মাগফুরা ওয়া সায়াম-মাশকুরা ও তিজারতান লান তাবুর।’
অর্থ- হে আল্লাহ! আমাদের মাবরুর ও মাকবুল হজ নসিব করুন, আমাদের সব পাপ ক্ষমা করুন, আমাদের সৎকর্মগুলো কবুল ও মূল্যায়ন করুন, আমাদের এমন সাফল্য ও ব্যবসা দান করুন, যাতে কোনো অকল্যাণ নেই। (সুনানে বায়হাকি)
মাহাত্ম্যপূর্ণ এ দিনগুলোতে কী কী নেক আমল করা প্রয়োজন তা জেনে নিন
নফল ইবাদত
জিলহজ মাসের প্রথম নয় দিন রোজা না রাখতে পারলেও আরাফার দিনে রোজা রাখা খুবই উত্তম।
আরাফার দিনের আরেকটি আমল হলো কালেমাটি বেশি বেশি পড়া। কালেমাটি হলো- ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু বিয়াদিহিল খাইরু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়্যিন কাদির।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৬৯২২)
আরও পড়ুন: হজ পালনের সময় সুস্থ থাকতে যা করবেন
তাকবিরে তাশরিক
জিলহজ মাসের নবম তারিখের ফজর থেকে ১৩ তারিখের আসর পর্যন্ত প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক বুদ্ধিমান মুসলিম নারী-পুরুষের জন্য একবার তাকবিরে তাশরিক বলা ওয়াজিব।
পুরুষের জন্য শব্দ করে আর নারীদের জন্য নীরবে। তাকবিরে তাশরিকটি হচ্ছে- ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’ (সুনানে বায়হাকি, হাদিস : ৬০৭১)