এপিএ স্বাক্ষর ও শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান


June 22, 2022 at 04:57AM
from somoynews.tv | RSS Feed

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এর আওতাধীন দফতর-সংস্থাসমূহের ২০২২-২৩ অর্থবছরের এপিএ (বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি) স্বাক্ষর হয়েছে। এ ছাড়া সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুন) দুপুরে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর এবং দফতর-সংস্থার পক্ষে দফতর-সংস্থার প্রধানরা এপিএ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি সচিব বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা একটি উন্নত ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই। এ সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম নিয়ামক হচ্ছে সংস্কৃতি। শুধু অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি দিয়ে সোনার বাংলা গড়া সম্ভব নয়, সংস্কৃতিও এক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 


আরও পড়ুন: কর্মস্পৃহাকে বৃদ্ধি করবে শুদ্ধাচার পুরস্কার: আতিক


মো. আবুল মনসুর বলেন, সংস্কৃতি নিয়ে অনেক কাজ হচ্ছে। কিন্তু সেগুলো বিক্ষিপ্তভাবে হচ্ছে। আমরা সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সেগুলোকে একসাথে জড়ো করে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও পরিকল্পনা অনুযায়ী গুছিয়ে করতে চাই।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এপিএ স্বাক্ষরকারী ১৭টি দফতর-সংস্থা হচ্ছে যথাক্রমে বাংলা একাডেমি, প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, গণগ্রন্থাগার অধিদফতর, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদফতর, কবি নজরুল ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি, বিরিশিরি-নেত্রকোণা, কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র-কক্সবাজার, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট-রাঙামাটি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট-খাগড়াছড়ি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট-বান্দরবান, রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি, রাজশাহী এবং মণিপুরি ললিতকলা একাডেমি, কমলগঞ্জ-মৌলভীবাজার।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভিশন, মিশন, কৌশলগত উদ্দেশ্যসমূহ এবং কার্যাবলীর আলোকে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ১৭টি দফতর-সংস্থা তাদের নিজস্ব ভিশন, মিশন কৌশলগত উদ্দেশ্য, কার্যাবলী, বাজেট বরাদ্দ ইত্যাদি বিবেচনা করে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি প্রণয়ন করেছে। সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, ফলাফলধর্মী কর্মকাণ্ডে উৎসাহ প্রদান এবং কর্মকৃতি বা পারফরমেন্স মূল্যায়নের লক্ষ্যে সরকার ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে সরকারি অফিসসমূহে ‘বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি' বা প্রবর্তন করেন।


২০২১-২২ অর্থবছরের মতো ২০২২-২৩ অর্থবছরের এপিএর কাঠামোয় সুশাসন ও সংস্কারমূলক কার্যক্রমসমূহকে (জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল, অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা, সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতি, ই-গভর্ন্যান্স ও উদ্ভাবন এবং তথ্য অধিকার) সমন্বিতভাবে এপিএর অংশ হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরপর সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর হাতে শুদ্ধাচার পুরস্কার তুলে দেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর।

শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান (সংশোধন) নীতিমালা ২০২১ অনুযায়ী সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদানের জন্য গঠিত বাছাই কমিটির সুপারিশ এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে ২০২১-২০২২ অর্থবছরে এ মন্ত্রণালয়ের দফতর-সংস্থার প্রধানদের মধ্য থেকে ১ (এক) জন, ০২-০৯ গ্রেডের মধ্যে ২ (দুই) জন, ১০-১৬ গ্রেডের মধ্য থেকে ১ (এক) জন এবং ১৭-২০ গ্রেডের মধ্য থেকে ১ (এক) জনসহ মোট ৫ (পাঁচ) জনকে শুদ্ধাচার পুরস্কার দেয়া হয়। 


আরও পড়ুন: শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের পাঁচজন


পুরস্কার হিসাবে এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্ধারিত ফরম্যাটে একটি সার্টিফিকেট ও একটি ক্রেস্ট দেয়া হয়। শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হচ্ছেন- সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দফতর-সংস্থার প্রধানদের মধ্য থেকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) রতন চন্দ্র পণ্ডিত (গ্রেড-২), সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. আতাউর রহমান (গ্রেড-৩), সিনিয়র সহকারী সচিব মো. সগীর হোসেন (গ্রেড-৬), প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাজু আহমেদ (গ্রেড-১০) ও অফিস সহায়ক মো. সাদ্রিব হোসেন (গ্রেড-২০)।

]]>
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url