চুয়েটে ফের হামলা-সংঘর্ষ, আহত ২

June 13, 2022 at 06:13AM
from somoynews.tv | RSS Feed
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুইপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় হামলা-সংঘর্ষে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ক্যাম্পাস। লাঠিসোটা, রামদা আর ইটপাটকেল নিয়ে ক্যাম্পাসেই টহল দিচ্ছে দুই গ্রুপ।
শনিবার (১১ জুন) বিকেলে ছাত্রলীগের এক গ্রুপের হামলায় মারাত্মকভাবে জখম হন দুই শিক্ষার্থী। তাদের একজনকে এদিন রাতেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতরা হলেন- যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের তৌহিদুর রহমান তামিম ও তড়িৎ কৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের রাফসান।
ছাত্রলীগের এক পক্ষের রামদার কোপে রাফসানের একটি আঙ্গুল মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে। আর মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন তামিম। তামিমকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর রাফসানের হাতে কয়েকটি সেলাই লেগেছে বলে জানা গেছে।
প্রায় তিন বছর আগে চুয়েটে নির্মিত শেখ রাসেল হলের নিয়ন্ত্রণ কারা নিবে- মূলত এটিকে ঘিরেই ও এই হলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই দুটি পক্ষ শনিবার মধ্যরাত থেকে নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। যা রোববার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্তও অব্যাহত ছিল।
দুপক্ষের এমন ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পুরো ক্যাম্পাস। সংঘাতে অংশ নেয়া এক গ্রুপ শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেফের অনুসারী ও আরেকটি সাবেক মেয়র আ জ ম নাছিরের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।
আরও পড়ুন: শিক্ষার্থীকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন, অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আটক
শনিবার রাতে চট্টগ্রাম শহরে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেফের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন তার অনুসারী চুয়েট ছাত্রলীগের একটি অংশের নেতাকর্মীরা। অনুষ্ঠান শেষ হতে দেরি হওয়ায় চুয়েটের রাত ৯টার বাসটি ৩০ মিনিট দেরিতে ছাড়তে বলে তারা। তবে একই বাসে থাকা আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এর বিরোধিতা করেন।
মূলত এ বিষয়টি নিয়েই বাকবিতণ্ডা থেকে সেটি একপর্যায়ে হামলা-মারামারিতে রূপ নেয়। একপর্যায়ে রাতেই ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে জড়ো হয় উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা। নওফেল এর সমর্থকের অনেকেই ক্যাম্পাসের পেছনের গেট দিয়ে হলে প্রবেশ করে। ফলে নাছিরের সমর্থকরা তাদেরকে আক্রমণ করতে ড. কুদরত-ই-খুদা হলের সামনে জড়ো হয়।
বিপরীত পক্ষকে হলে না পেয়ে উভয় পক্ষই একে অপর পক্ষের রুমের তালা ভেঙে রুমে প্রবেশ করে তাদের বিছানা ও রুমের জিনিসপত্র বাইরে ছুড়ে ফেলে দিয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিয়ে স্লোগান দিতে থাকে। যা শনিবার ভোর ৪টা পর্যন্ত চলতে থাকে। এ সময় দুই পক্ষই বিপুল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয়।
রোববার (১২ জুন) দুপুর থেকে আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। দুপুরে শেখ রাসেল হলে নওফেলের অনুসারী পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সাজিদকে নাছিরের সমর্থকরা হলে একা পেয়ে আক্রমণ করে। নাছির সমর্থকদের প্রতিহত করতে ড. কুদরাত-ই-খুদা হল থেকে নওফেল সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শেখ রাসেল হলে প্রবেশের চেষ্টা করে। তবে আগে থেকে নিরাপত্তাকর্মীরা হলের গেট বন্ধ করে দেয়ায় তারা হলে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়।
পরে শেখ রাসেল হল থেকে নাছির সমর্থকরা তাদের ধাওয়া করলে নওফেলের অনুসারীরা ড. কুদরাত-ই-খুদা হলের সামনে অবস্থান নেয়।