শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা: সাবেক এমপির জামিন আদেশ প্রত্যাহার

May 26, 2022 at 05:50AM
from somoynews.tv | RSS Feed
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা মামলার প্রধান আসামি ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব গোপনে প্রায় এক মাস আগে হাইকোর্ট থেকে জামিন আদেশ করান। গত ২৮ এপ্রিল হাবিবুল ইসলাম হাবিবুল হাবিবের জামিন বিষয়ে হাইকোর্ট রুল দেওয়ার পাশাপাশি ৬ মাসের জামিন দিয়েছিলেন।
তবে জামিনের বিষয়টি ‘অবগত’ ছিল না অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়। এরপর তাকে যশোর কারাগার থেকে বের করার তোড়জোড় শুরু হয়।
কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার (২৪ মে) হঠাৎ অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় তার জামিন পাওয়ার বিষয়টি জানতে পারে। এরপরই নড়েচড়ে বসে সবাই। কেন তার জামিন পাওয়ার বিষয়টি জানানো হয়নি তা জানতে চাওয়া হয়।
এরই প্রেক্ষিতে আজ বুধবার (২৫ মে) দুপুর ১২টায় হাবিবুল ইসলাম হাবিবের জামিন পাওয়ার বিষয়ে বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি আশিষ রঞ্জন দাশের বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ বসেন। পরে হাইকোর্ট বিএনপির সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে দেওয়া জামিন আদেশ প্রত্যাহার করে আদেশ দেন।
অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর গণমাধ্যমকে বলেন, গত ২৮ এপ্রিল হাইকোর্ট থেকে হাবিবুল ইসলাম হাবিব গোপনে জামিন করিয়ে নিয়েছিলেন। তার জামিন পাওয়ার বিষয়টি আমরা তখন জানতে পারিনি। পরে বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়। আজ স্পেশাল কোর্ট বসে জামিন আদেশ প্রত্যাহার করেছে।
এদিকে এ ঘটনায় দুই ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে শোকজ করা হয়েছে। পাশাপাশি কেন তার জামিন আদেশের বিষয় জানানো হয়নি তারও লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা: ফাঁসির আসামি আব্দুল হাই গ্রেফতার
২০০২ সালের ৩০ আগস্ট সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। ওইদিনই কলারোয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোসলেম উদ্দিন বাদি হয়ে মামলা করেন। এ মামলায় তদন্ত শেষে বিএনপির হাবিবুল ইসলামসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা হয়েছে। এরপর মামলার আসামি রাকিবের আবেদনে ২০১৭ সালের ২৩ আগস্ট হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। একইসঙ্গে রাকিবের ক্ষেত্রে মামলার কার্যক্রম কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। পরে রাকিবকে জামিন দেওয়া হয়। রাকিবের আবেদন ছিল, যখন ঘটনার কথা বলা হয় তখন অর্থাৎ ২০০২ সালে তার বয়স ছিল ১০ বছর। সুতরাং তার বিচার হতে হলে শিশু আইনে হবে। বড়দের সঙ্গে দায়রা জজ আদালতে করা যাবে না।
২০২০ সালের ৮ অক্টোবর ওই রুল খারিজ করে রায় দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাকিবুর। এ আবেদনে আপিল বিভাগ তিনমাসের মধ্যে নিম্ন আদালতে বিচার সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। এরপর বিচার শেষে সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় সব আসামিকে সাজা দিয়ে রায় দেন। রায়ে হাবিবুল ইসলামকে কয়েকটি ধারায় ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। এছাড়া সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তারসহ অপরাপর আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।