জিআই কী ও কেন? বাংলাদেশের জিআই পণ্যসমূহ

May 18, 2022 at 04:57AM
from somoynews.tv | RSS Feed
কোনো একটি দেশের মাটি, পানি, আবহাওয়া এবং ওই জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি যদি কোনো একটি পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তাহলে সেটিকে ওই দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (জিআই) হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। অর্থাৎ সেই পণ্য শুধু ওই এলাকা ছাড়া অন্য কোথাও উৎপাদন করা সম্ভব নয়। সম্প্রতি বাগদা চিংড়ি জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। যা দশম জিআই পণ্য। এর আগে বাংলাদেশের জিআই পণ্য ছিল নয়টি।
কোনো পণ্য জিআই স্বীকৃতি পেলে পণ্যগুলো বিশ্বব্যাপী ব্র্যান্ডিং করা সহজ হয়। পণ্যগুলোর আলাদা কদর থাকে। ওই অঞ্চল বাণিজ্যিকভাবে পণ্যটি উৎপাদন করার অধিকার এবং আইনি সুরক্ষা পায়।
জিআই কি?
জিআই হলো ভৌগলিক নির্দেশক চিহ্ন যা কোনো পণ্যের একটি নির্দিষ্ট উৎপত্তিস্থলের কারণে এর খ্যাতি বা গুণাবলী নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয়। সাধারণত জিআইতে উৎপত্তিস্থলের নাম (শহর, অঞ্চল বা দেশ) অন্তর্ভুক্ত থাকে। জিআই (GI) এর পূর্ণরুপ হলো (Geographical indication) ভৌগলিক নির্দেশক। WIPO (world intellectual property organization) হলো জিআই পণ্যের স্বীকৃতি দানকারী প্রতিষ্ঠান।
আরও পড়ুন: দশম পণ্য হিসেবে জিআই সনদ পেল বাগদা চিংড়ি
কেন?
কোনো নির্দিষ্ট স্থানের কোনো পণ্য খুব নামকরা হলে এবং সেই নামের ওপর বিশ্বাস করেই পণ্যটি কেনা ও ব্যবহার করার গুরুত্ব দিতেই এই জিআই সনদ দেওয়া হয়। প্রতিটি পণ্যের সঙ্গে সে স্থানের নাম যুক্ত করা হয়।
যেমন: ঢাকাই জামদানি এক সময় শুধু ঢাকার কারিগররাই উৎপাদন করতে পারতেন। আর ঢাকার আবহাওয়াও এ জামদানি তৈরির জন্য উপযোগী ছিল। ফলে যুগের পর যুগ তারা এ জামদানি তৈরি করে এসেছে। যা পৃথিবী জুড়ে স্বীকৃত।
বাংলাদেশের জিআই পণ্যসমূহ
বাংলাদেশে নতুন করে আরও একটি পণ্য ভৌগলিক নির্দেশক হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে। এ নিয়ে বাংলাদেশে মোট জিআই পণ্যের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১০টিতে।
নতুন নিবন্ধিত জিআই পণ্য হলো বাগদা চিংড়ি। যা বাংলাদেশের দশম পণ্য হিসেবে জিআই সনদ পেল।
এর আগে বাংলাদেশে প্রথম বারের মতো জিআই পণ্য হিসেবে ২০১৬ সালে স্বীকৃতি পেয়েছিল জামদানি। এরপর ২০১৭ সালে ইলিশ, ২০১৯ সালে খিরসাপাতি আম, ২০২০ সালে ঢাকাই মসলিন এবং ২০২১ সালে রাজশাহী সিল্ক, রংপুরের শতরঞ্জি, কালিজিরা চাল, দিনাজপুরের কাটারীভোগ চাল এবং নেত্রকোনার সাদামাটি মোট ৫টি পণ্যকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জিআই পণ্য সর্বমোট ১০টি। যা এখন থেকে বাংলাদেশের নিজস্ব পণ্য হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি পাবে।
১. বাংলাদেশের প্রথম স্বীকৃতিপ্রাপ্ত জিআই বা ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হচ্ছে জামদানি। এটির আবেদনকারী ও সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন।
নিবন্ধিত হয়: ১ সেপ্টেম্বর ২০১৫
সনদ প্রাপ্তি: ১৭ নভেম্বর ২০১৬
২. দ্বিতীয় ভৌগলিক নিদের্শক পণ্য হলো ইলিশ। এটির আবেদনকারী ও সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হলো মৎস্য অধিদফতর।
নিবন্ধিত হয়: ১৩ নভেম্বর ২০১৬
সনদ প্রাপ্তি: ১৭ আগস্ট ২০১৭
৩. তৃতীয় ভৌগলিক নিদের্শক পণ্য হলো চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম। এটির আবেদনকারী ও সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট।
নিবন্ধিত হয়: ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
সনদ প্রাপ্তি: ২৭ জানুয়ারি ২০১৯
৪. চতুর্থ ভৌগলিক নির্দেশক পণ্য বিজয়পুরের সাদা মাটি। এটির আবেদনকারী ও সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, নেত্রকোনা।
নিবন্ধিত হয়: ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
সনদ প্রাপ্তি: ১৭ জুন ২০২১
৫. পঞ্চম ভৌগলিক নিদের্শক পণ্য দিনাজপুর কাটারীভোগ। এটির আবেদনকারী ও সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট।
নিবন্ধিত হয়: ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
সনদ প্রাপ্তি: ১৭ জুন ২০২১
আরও পড়ুন: জিআই সনদ পাচ্ছে আরও দুই পণ্য
৬. ষষ্ঠ ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য কালিজিরা। এটির আবেদনকারী ও সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান :বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট।
নিবন্ধিত হয়: ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
সনদ প্রাপ্তি : ১৭ জুন ২০২১
৭. সপ্তম ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য রংপুরের শতরঞ্জি। আবেদনকারী ও সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প।
নিবন্ধিত হয়: ১১ জুলাই ২০১৯
সনদ প্রাপ্তি: ১৭ জুন ২০২১
৮. অষ্টম ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য রাজশাহী সিল্ক। আবেদনকারী ও সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড।
নিবন্ধিত হয়: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭
সনদ প্রাপ্তি: ১৭ জুন ২০২১
৯. নবম ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য ঢাকাই মসলিন। আবেদনকারী ও সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড।
নিবন্ধিত হয়: ২ জানুয়ারি ২০১৮
সনদ প্রাপ্তি: ১৭ জুন ২০২১
১০. দশম ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য বাগদা চিংড়ি। আবেদনকারী ও সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মৎস্য অধিদফতর।
নিবন্ধিত হয়: ৪ জুলাই ২০১৯
সনদ প্রাপ্তি: ২৪ এপ্রিল ২০২২
এ ছাড়া আরও একটি বাংলাদেশি পণ্য ফজলি আম জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত জিআই সনদ পায়নি।
]]>