যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলায় সাড়ে ৫ মাসেই নিহত দুই শতাধিক

May 16, 2022 at 05:52AM
from somoynews.tv | RSS Feed
যুক্তরাষ্ট্রে বেড়েই চলেছে বন্দুক হামলার ঘটনা। দেশটির বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তথ্য মতে, চলতি বছর সাড়ে ৫ মাসেই প্রাণ গেছে দুই শতাধিক মানুষের। আহত অন্তত এক হাজার। একের পর এক বন্দুক হামলায় উদ্বেগে সাধারণ মানুষ। এ অবস্থায় ব্যক্তিগত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন সংস্কারের দাবি জানিয়েছে আইনপ্রণেতাসহ বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতা দীর্ঘদিনের সামাজিক সমস্যা। এর সমাধানে নানাভাবে চেষ্টা করছে দেশটির সরকার। কিন্তু কোনোভাবেই লাগাম টানা যাচ্ছে না। দেশটির বিভিন্ন স্থানে প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও বন্দুক হামলায় প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিভিন্ন ওয়েবসাইট বলছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত অন্তত দুই শতাধিক মানুষ বন্দুক হামলায় নিহত হয়েছেন। আহত অন্তত এক হাজার। গেল এপ্রিলেই মিনেসোটা ও পেনসিলভেনিয়ায় বন্দুক হামলায় অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়।
বড়দিন ঘিরে বিভিন্ন স্থানে তিনবার বন্দুক হামলা চালানো হয়। এ মাসেই পিটসবার্গে একটি পার্টিতে হামলায় নিহত হন দুই কিশোর। সাউথ ক্যারোলাইনায় একটি ব্যস্ত শপিং মলে বন্দুক হামলায় আহত হন অন্তত ১৪ জন।
আরও পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলায় আতঙ্কে প্রবাসী বাংলাদেশিরা
শনিবারই (১৪ মে) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত বাফেলো শহরে বন্দুক হামলায় অন্তত ১০ জন মারা গেছেন। এদিন উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে বাস্কেটবল খেলা নিয়ে সংঘর্ষের জেরে গোলাগুলিতে অন্তত ২০ জন আহত হন। এ ছাড়া লস অ্যাঞ্জেলেসে একটি বাজারে নিহত হন একজন।
এর আগে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন রাজ্যের মিলওয়াকিতে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলিতে ২০ জন আহত হন। স্থানীয় একটি বাস্কেটবল খেলার মাঠের কাছে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। বাদ পড়ছে না বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও। চলতি বছরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্কুলে এখন পর্যন্ত ১১টি বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে।
গত মাসে (এপ্রিল) প্রকাশিত ইউএস সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) এক রিপোর্ট মতে, ২০২০ সালে করোনা মহামারির শুরুর বছরে বন্দুক হামলায় যুক্তরাষ্ট্রে ৪ হাজার ৩০০ শিশুর মৃত্যু ঘটে। আর সব বয়সী মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ছিল ৪৫ হাজার ২২২ জন।
রিপোর্টে বলা হয়, আইনিভাবে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার সুযোগ অনেকটা অবাধ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ৩২ কোটি নাগরিকের হাতেই রয়েছে ৩৯ কোটি আগ্নেয়াস্ত্র। বিভিন্ন সময়ে এসব আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের দাবি উঠলেও অস্ত্র উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের চাপে তাতে কোনো কাজ হয়নি। আর মহামারির মধ্যে বন্দুক সহিংসতা আরও বেড়ে যায়।
আরও পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে গোলাগুলিতে হতাহত ২০
সিডিসির তথ্যানুযায়ী, ২০২০ সালে আগ্নেয়াস্ত্রের কারণে ১ থেকে ১৯ বছর বয়সী শিশুর মৃত্যু আগের বছরের চেয়ে ৩৩.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। বিগত বছরগুলোতে তরুণ আমেরিকানদের মৃত্যুর প্রধান কারণ ছিল গাড়ি দুর্ঘটনা। এরপরই ছিল বন্দুক হামলা ও গুলিজনিত মৃত্যু।
সিডিসির গবেষণা অনুযায়ী, শিশু-কিশোরদের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে সার্বিক প্রাণহানির হার ২৯.৫ শতাংশ। গুলিতে মৃত্যুর ঘটনাগুলোর মধ্যে হত্যার পাশাপাশি রয়েছে আত্মহত্যা, অবহেলাজনিত ও অনিচ্ছাকৃত মৃত্যু। এ সময়ের মধ্যে দেশটিতে গুলিতে আত্মহত্যার হার বৃদ্ধি পায় ১.১ শতাংশ।
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে অ্যানালস অব ইন্টারনাল মেডিসিনে প্রকাশিত পৃথক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ৭৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক (যা জনসংখ্যার ৩ শতাংশেরও কম) প্রথমবারের মতো আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক হন।
সূত্র : বিবিসি ও সিএনএন