‘যৌন হয়রানির’ অভিযোগ ওঠা ২ শিক্ষক ঢাবির নীল দলের প্রার্থী

May 12, 2022 at 09:35PM
from jagonews24.com | rss Feed
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সিনেটে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে আওয়ামী লীগপন্থি নীল দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন ‘যৌন হয়রানির অভিযোগ’ ওঠা দুই শিক্ষক।
তারা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আকরাম হোসেন ও লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (১২ মে) এই দুই শিক্ষককে প্রার্থী রেখে নীল দল তাদের মনোনীত ৩৫ সদস্যের প্যানেল রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের নির্বাচন শাখা জমা দিয়েছে। এদিন বিএনপি-জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলও তাদের মনোনীত সদস্যদের তালিকা জমা দেয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধ্যাপক আকরাম হোসাইনের বিরুদ্ধে নিজ বিভাগের ষষ্ঠ ব্যাচের এক ছাত্রীকে ‘যৌন হয়রানির অভিযোগ’ রয়েছে। ওই ছাত্রী এ বিষয়ে উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগও করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ‘২০১৮ সালে শিক্ষক নিয়োগের আগে অধ্যাপক আকরাম হোসেনের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি তাকে কুপ্রস্তাব দেন।’ ছাত্রীর এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া সাময়িক স্থগিত করা হয়। একই সঙ্গে অভিযোগটি খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ সেলে পাঠানো হয়। তবে অভিযোগটি এখনো তদন্তাধীন।
আরেক অধ্যাপক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চের (নিটার) নারী সহকর্মীদের ‘হেনস্তা ও যৌন হয়রানির অভিযোগ’ রয়েছে। তিনি প্রতিষ্ঠানটির সাবেক অধ্যক্ষ ও উপদেষ্টা। গত বছরের ২২ নভেম্বর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের কাছে তার বিভিন্ন ‘অনিয়ম ও যৌন হয়রানি’ নিয়ে নিটারের ৩৭ জন শিক্ষক লিখিত অভিযোগ দেন। এ অভিযোগটিও তদন্তাধীন।
প্যানেলে এ দুই শিক্ষক থাকার তথ্য নিশ্চিত করেছেন নীল দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক আব্দুস সামাদ। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। অভিযোগ যে কেউ করতেই পারেন। তবে সেটি এখনো প্রমাণিত না। এজন্য আমরা ওনাদের প্যানেলে রেখেছি। যদি ওনারা নির্বাচিত হওয়ার পরও অভিযোগ প্রমাণিত এবং শাস্তি হয়, তখন তাদের রাখা হবে না।’
দলে আরও অনেক শিক্ষক থাকার পরও তাদেরকে কেন প্যানেলে রাখা হলো, এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক আব্দুস সামাদ বলেন, ‘এটা আমরা কারও একক সিদ্ধান্তে ঠিক করিনি। অনুষদ ও ইনস্টিটিউট থেকে তাদের নাম প্রস্তাব করা হয়। সেটি নীল দলের সাধারণ সভায় চূড়ান্ত করা হয়।’
আগামী ২৪ মে ঢাবির সিনেটে ৩৫ জন শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৬ মে প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখ। এরমধ্যে কোনো দল চাইলে তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের প্রতিনিধি হিসেবে কোষাধ্যক্ষ এ নির্বাচনে কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন।
ঢাবির সিনেট নির্বাচন কমিশনার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মমতাজ উদ্দিন আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন প্রার্থী থাকলে বিতর্কিতদের মনোনয়ন না দেওয়াটাই ভালো। তবে কারও যদি শিক্ষক পদ না থাকে, শুধু সেক্ষেত্রে আমরা তার প্রার্থিতা বাতিল করতে পারি। তাই এক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই।’
আল-সাদী ভূঁইয়া/এএএইচ/জেআইএম