ইমরানের উৎখাতের নেপথ্যে আসল খেলোয়াড় যারা


April 11, 2022 at 05:35AM
from somoynews.tv | RSS Feed

ইমরান খান। পাকিস্তানের প্রথম বিশ্বজয়ী ক্রিকেটার। ক্রিকেটের সেই সোনালী সময় থেকেই একজন জাতীয় নায়ক। এরপর ক্রিকেট ছেড়ে নামেন রাজনীতিতে এবং কিছুদিনের মধ্যেই হয়ে ওঠেন একজন ক্যারিশম্যাটিক রাজনীতিবিদ।

রাজনীতিতে কয়েক বছর মাঠের লড়াইয়ের পর পাকিস্তানে কয়েক দশক ধরে আধিপত্য করে আসা পরিবারতান্ত্রিক দুই রাজনৈতিক শক্তিকে উৎখাত করে ক্ষমতায় আসেন তিনি। হন দেশের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু চার বছরের মাথায় প্রধানমন্ত্রিত্ব হারালেন ইমরান খান। একের পর এক নাটকীয়তার পর শনিবার (৯ এপ্রিল) পার্লামেন্টে বিরোধীদের আনা অনাস্থা ভোটের মধ্যদিয়ে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন।

এ অনাস্থা প্রস্তাবকে সেই শুরু থেকেই ক্ষমতা থেকে উৎখাত করার ‘বিদেশি ষড়যন্ত্র’ বলে আসছিলেন ইমরান খান। তিনি বারবার বলেছেন, তার স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ‘বিদেশি শক্তিদের’ খুশি করতে পারেনি। আর তাই এসব শক্তিই তার বিরোধীদের অর্থ দিয়ে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে সহযোগিতা করেছে। তবে তার ক্ষমতাচ্যুতির পেছনে বিদেশি শক্তির হাত থাকুক বা না থাকুক এক্ষেত্রে আসল খেলোয়াড়ের ভূমিকা পালন করেছেন তার দেশেরই কয়েক রাজনীতিক।

শাহবাজ শরীফ

শাহবাজ শরীফ পাকিস্তানের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের ভাই। দুর্নীতির অভিযোগে রাজনীতিতে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ নওয়াজ বর্তমানে লন্ডনে রয়েছেন। ইমরানের পর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে নেমেছেন শাহবাজ।

৭০ বছর বয়সী এই হেভিওয়েট রাজনীতিক ইতোপূর্বে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ পাঞ্জাবই শরীফ পরিবারের রাজনৈতিক ঘাঁটি। শাহবাজ বর্তমানে পাকিস্তানের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) প্রেসিডেন্ট। কয়েক সপ্তাহব্যাপী চলতে থাকা নাটকে বড় ভূমিকা ছিল তার।

অত্যন্ত কঠোর প্রশাসক হিসেবে খ্যাতি রয়েছে শাহবাজের। বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রায়ই বিপ্লবী কবিতা আওড়ানোর জন্য একটা আলাদা পরিচয়ও রয়েছে। কাজের ক্ষেত্রে অত্যন্ত পরিশ্রমী তিনি। একাধিক বিয়ে আর অঢেল সম্পদের কারণে প্রায়ই সংবাদের শিরোনাম হন শাহবাজ। এরপরও সাধারণ জনগণের কাছে বেশ জনপ্রিয় তিনি।

আসিফ আলি জারদারি

পাকিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ সিন্ধুর এক ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান আসিফ আলি জারদারি। একাধিক বিবাহ, প্লেবয় লাইফস্টাইল, দুবাই-ব্রিটেনের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের জন্য তিনি বিভিন্ন সময় খবরে এসেছেন। সম্বন্ধ করে বেনজির ভুট্টোর সঙ্গে বিয়ে হয় তার। তারপরেই পাকিস্তানের গদিতে বসেন বেনজির।

অর্থপাচার, দুর্নীতি এমনকি খুনের অভিযোগে দুই বার জেল খেটেছেন আসিফ। তারপরও তার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। ২০০৭ সালে বেনজির ভুট্টোর মৃত্যুর পর ৬৭ বছর বয়সে পাকিস্তান পিপলস পার্টির সভাপতি পদে বসেন আসিফ। এক বছরের জন্য পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টও হয়েছিলেন তিনি।

বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি

বেনজির ভুট্টো ও আসিফ আলি জারদারির ছেলে। মায়ের মৃত্যুর পর মাত্র ১৯ বছর বয়সে পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) সভাপতি হন। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেছেন। বর্তমানে ৩৩ বছর বয়সী বিলাওয়ালকে মা বেনজিরের মতো প্রগতিশীল বিবেচনা করা হয়। প্রায়শই নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কথা বলেন তিনি।

পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক বয়সই এখন ২২ বছর বা তার নিচে। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় তরুণদের একটা বড় অংশের কাছে বেশ জনপ্রিয় বিলাওয়াল। তবে জাতীয় ভাষা উর্দুতে ভালো কথা বলতে না পারায় প্রায়ই তিরস্কারের মুখে পড়েন এই রাজনীতিক।

মাওলানা ফজলুর রহমান 

ইসলামের কট্টরপন্থী সমর্থক হিসেবেই রাজনৈতিক জীবন শুরু। অবশ্য পরবর্তী বছরগুলোতে বারবার নিজের সেই ইমেজ ও অবস্থান বদল করেছেন। ফলে কখনও ধর্মনিরপেক্ষ আবার কখনও বামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে জোট গড়তে দেখা গেছে তাকে। এক ডাকে হাজার হাজার মাদ্রাসা ছাত্রকে এক জায়গায় জড়ো করার ক্ষমতা থাকলেও তার দল জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম (এফ) আজও ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যথেষ্ট সমর্থন যোগাড় করতে পারেনি।

কিন্তু ইমরান খানের উৎখাতে বড় খেলা খেলে দিয়েছেন এই মাওলানা। সাবেক ক্রিকেটারের সঙ্গে মাওলানার শত্রুতা মূলত তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে। ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত জেমিমা গোল্ডস্মিথের সঙ্গে বিয়ে নিয়ে ইমরানকে ‘ইহুদি’ ফতোয়া দেওয়া ও ইমরানবিরোধী হাইপ তুলতে মাওলানার জুড়ি নেই। জ্বালানি লাইসেন্স সংক্রান্ত দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ কারণে প্রায়ই ‘মোল্লা ডিজেল’ নামে ডাকা হয়।
 

]]>
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url