টুইটার নিয়ে মুখোমুখি প্রিন্স তালাল-ইলন মাস্ক


April 16, 2022 at 05:13AM
from somoynews.tv | RSS Feed

সামাজিক মাধ্যম টুইটার নিয়ে সৌদি আরবের যুবরাজ আল-ওয়ালিদ বিন তালালের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। সম্প্রতি এ নিয়ে কথার লড়াইও হয়েছে তাদের মধ্যে।

খুদে ব্লগটি কিনতে প্রস্তাব দিয়েছিলেন স্পেসএক্সের প্রধান। সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন প্রিন্স তালাল। এতে খেপে গিয়ে টুইটারে সৌদি আরবের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্পেসএক্সের প্রধান। খবর আলজাজিরা।

টুইটারের মূল্য হিসেবে ৪ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার দিতে চেয়েছেন ইলন মাস্ক। আর তাতে নাখোশ সৌদি প্রিন্স। নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইলন মাস্ক যে মূল্য দিতে চেয়েছেন, তাতে তিনি টুইটারের স্বাভাবিক দামের কাছেও আসতে পারেননি।

এই সৌদি ধনকুবের বলেন, টুইটারের দীর্ঘদিনের ও সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার হিসেবে ইলন মাস্কের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে কিংডম হোল্ডিং কোম্পানি। এ সময় ২০১৫ সালের একটি টুইট শেয়ার করেন আল-ওয়ালিদ বিন তালাল। এতে কোম্পানিটিতে তার মালিকানা পাঁচ দশমিক দুই শতাংশ বেড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

টুইটারের ৯ দশমিক ২ শতাংশ শেয়ারের মালিক টেসলাপ্রধান। প্রিন্স তালালের টুইটের জবাবে তিনি প্রশ্ন রাখেন–প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে টুইটারের কত শতাংশের মালিক সৌদি আরব? সাংবাদিকতাভিত্তিক বাকস্বাধীনতায় সৌদি আরবের দৃষ্টিভঙ্গি কী?

এই ধনকুবের বলেন, ‘আমি টুইটারকে আরও বিকশিত করতে চাচ্ছি। প্ল্যাটফর্মটি যাতে বাকস্বাধীনতার কেন্দ্রবিন্দু হয়, তা নিশ্চিত করতেই এটি কিনতে চাচ্ছি।’

তার এই মন্তব্যের সুযোগ হাতছাড়া করেননি টুইটার ব্যবহারকারী ও মানবাধিকারকর্মীরা। সঙ্গে সঙ্গে একটি টুইটপোস্টকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবে ২০ বছর সাজা ভোগ করা আবদুলরহমান আল-সাধানের দৃষ্টান্ত সামনে নিয়ে আসে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফ্রিডাম ইনিশিয়েটিভ।

গোষ্ঠীটি বলছে, সৌদি আরবে বাকস্বাধীনতার এটিই দৃষ্টান্ত? ব্যঙ্গাত্মক টুইট করায় তরুণ দাতব্যকর্মীদের ভাগ্যে কী ঘটেছিল?

জানুয়ারি পর্যন্ত ৩ কোটি ৪৮ লাখ জনসংখ্যার সৌদি আরব বিশ্বের অষ্টম টুইটার ব্যবহারকারী দেশ। উপসাগরীয় দেশটিতে ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ টুইটার ব্যবহার করেন। তবে সৌদিতে কোনো স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের অনুমোদন নেই। ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর নিয়মিত ধরপাকড় চলছে।

আরও পড়ুন: হঠাৎ বিপাকে টুইটার ব্যবহারকারীরা

এ ছাড়া বিদেশে বসবাস করা সৌদি সাংবাদিকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ২০১৮ সালে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যায় সৌদি সিংহাসনের উত্তরসূরি মোহাম্মদ বিন সালমানের সরাসরি জড়িত থাকার কথা বলছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

সৌদির বিভিন্ন নীতির সমালোচনাকারী ও মার্কিন নাগরিকদের তথ্য পেতে টুইটারকে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে কোম্পানিটির দুই সাবেক কর্মীর বিরুদ্ধে। ২০১৯ সালে মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয় তাদের অভিযুক্তও করেছে।

একচোখা চশমার ইমোজি টুইট করায় যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনও শেয়ার করেন ইলন মাস্ক।

প্রথমত, সামাজিক মাধ্যমটি কিনে ইলন মাস্ক কী ধরনের পরিবর্তন ঘটাতে চাচ্ছেন, তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কারণ, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গুজবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্ল্যাটফর্মটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ। ইতোমধ্যে যা বাস্তবায়ন করেছে টুইটার।

খুদে ব্লগটির সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে যারা সরব, তাদের মধ্যে ইলন মাস্কও একজন। কাতারের হামাদ বিন খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য শিক্ষা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মার্ক ওয়েন জোনস বলেন, বিরক্তিকর বিষয় হচ্ছে, বৈশ্বিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে চাচ্ছেন সৌদি প্রিন্স ও ইলন মাস্ক।

বৃহস্পতিবার টুইটার বলেছে, কোম্পানি ও স্টোকহোল্ডারদের সর্বাত্মক স্বার্থ মাথায় নিয়ে পদক্ষেপ নিতে ইলন মাস্কের পদক্ষেপ বিবেচনায় নেওয়া হবে। ফোর্বসের হিসাবে, ২৭ হাজার ৩৬০ কোটি মার্কিন ডলারের সম্পদ আছে ইলন মাস্কের। শনিবার টুইটারের বোর্ডে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।

আরও পড়ুন: টুইটার বোর্ডে থাকছেন না ইলন মাস্ক

]]>
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url