চাকরির প্রলোভনে কিশোরীকে ডেকে এনে গণধর্ষণ


March 10, 2022 at 04:56AM
from somoynews.tv | RSS Feed

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক কিশোরী বাসায় কাজ করতে এসে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। সোমবার (৭ মার্চ) রাতে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার নতুনবাজারের খেজুরতলা গাংপাড় শ্মশানঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ওই কিশোরীর দাদি বুধবার (৯ মার্চ) সকালে গণধর্ষণের সঙ্গে জড়িত গৃহকর্তা দুলাল, তার স্ত্রী ফাতেমা পারভিন ও দালাল জাহাঙ্গীর ওরফে রাকিব ওরফে ধলাসহ অজ্ঞাত ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে রায়পুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
 

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার দুপুরে ওই কিশোরীকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মংনেথোয়াই মারমা ও ডিএসবি ইন্সপেক্টর মো. আজিজুর রহমান।


আরও পড়ুন: প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, বৃদ্ধকে গণপিটুনি 
 

এ সময় ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় গৃহকর্তা দুলাল ও তার স্ত্রীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পরে ওই কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
 

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, উত্তর চরআবাবিল ইউপির ঝাউডুগি গ্রামের বাসিন্দা ওই কিশোরীর ছয় বছর আগে বাবা মারা যান। মা-ও বিয়ে করে চলে যান অন্যত্র। এতে ওই কিশোরীসহ চার বোন বড় হয় দাদা-দাদির কাছে। অভাবের তাড়নায় দরিদ্র পরিবারটির সংসার চালানো কষ্টসাধ্য হওয়ায় ওই কিশোরীকে রায়পুর শহরের একটি বাসায় কাজে দেওয়ার প্রলোভন দেখায় একই গ্রামের হায়দরগঞ্জ বাজারের ফার্নিচার কর্মচারী জাহাঙ্গীর ওরফে রাকিব ওরফে ধলা। তার কথা অনুযায়ী ওই কিশোরীকে গত ৭ মার্চ রায়পুর পৌরসভার নতুনবাজার এলাকার দুলালের বাসায় কাজে দেন তার দাদি। তাকে নিয়ে আসেন জাহাঙ্গীর ওরফে ধলা। কিন্তু রাত নামতেই ওই কিশোরীর ওপর নেমে আসে মানুষরূপী হায়নাদের নিষ্ঠুর থাবা। ওই বাড়ির গৃহকর্তা দুলাল, জাহাঙ্গীরসহ ৭-৮ জন মিলে ওই কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
 

পরে জানা যায়, বাসার কাজের জন্য নয়, দেহ ব্যবসার জন্য নারী ব্যবসায়ী দুলালের কাছে ওই কিশোরীকে এক লাখ টাকায় বিক্রি করে দেয় দালাল জাহাঙ্গীর ওরফে রাকিব ওরফে ধলা। কিন্তু ওই রাতে দুলাল চুক্তি অনুযায়ী জাহাঙ্গীরকে পুরো টাকা না দেওয়ায় মঙ্গলবার সকালে ওই কিশোরীকে তার দাদির কাছে পৌঁছে দেয় সে। পরে তার পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী প্রকৃত ঘটনা জানার পর বুধবার সকালে ওই কিশোরীকে নিয়ে রায়পুর থানায় অভিযোগ করেন ওই কিশোরীর দাদি। পরে দুলাল ও তার স্ত্রীকে আটক করে পুলিশ। বাকি অভিযুক্তরা পলাতক। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আরও পড়ুন: ধর্ষণচেষ্টার বিচার না পেয়ে নারীর আত্মহত্যা, অভিযোগ পরিবারের 
 

লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মংনেথোয়াই মারমা বলেন, ‘গণধর্ষণের শিকার কিশোরীর দাদি ৭-৮ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ঘটনাস্থলে এসে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় গৃহকর্তা দুলাল ও তার স্ত্রীকে আটক করেছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে। ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলা প্রস্তুতি চলছে।’

]]>
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url