সারা বিশ্বের ইহুদিদের কাছে জেলেনস্কির যা চাইলেন
March 04, 2022 at 05:04AM
from somoynews.tv | RSS Feed
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, পৃথিবীর মানচিত্র থেকে ইউক্রেনকে মুছে ফেলতে চাইছে রাশিয়া। মুছে ফেলতে চাইছে ইউক্রেনের ইতিহাস, সংস্কৃতি সবকিছু। কিন্তু কেবল বোমা ফেলে আর রকেট ছুঁড়ে ইউক্রেনকে মুছে ফেলা যাবে না। প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, রাশিয়ার সেনারা জানেই না ইউক্রেনের ইতিহাস। তাদের কাছে কিয়েভ বিদেশ। সেজন্যই তারা হলোকস্টের মেমোরিয়ালে আক্রমণ চালায়।
জেলেনস্কি বলেছেন, নাৎসি আক্রমণের সময় ওই অঞ্চলে ৩৩ হাজার ইহুদিকে হত্যা করা হয়েছিল। তাদের স্মরণ করেই ওই মেমোরিয়াল তৈরি হয়েছিল। মৃতদের কবর দেওয়া হয়েছিল ওখানে। গোটা বিশ্ব তখন জানিয়েছিল, আর কোনোদিন এমন বর্বর আক্রমণ হবে না। কিন্তু রাশিয়া হলোকস্ট মেমোরিয়ালে আক্রমণ চালিয়ে ফের একই কাজ করল। এরপরেই গোটা বিশ্বের ইহুদিদের কাছে ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানান জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, এতদিন বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলি ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু লড়াইয়ে ইউক্রেন ক্রমশ একা হয়ে পড়ছে।
জেলেনস্কির এই বার্তার কিছুক্ষণ পরেই রাশিয়া দাবি করেছে, ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চল তারা দখল করে নিয়েছে। পরে খেরসনের মেয়র জানিয়েছেন এখনো লড়াই চলছে। শহর এখনো তার কন্ট্রোলে। গত সাতদিনে এই প্রথম কোনো অঞ্চল সম্পূর্ণ দখল করে নেওয়ার কথা জানালো রাশিয়া।
আরও পড়ুন: ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ: ৭ দিনের ঐতিহাসিক ঘটনা
ইউক্রেনে যখন মুহুর্মুহু হামলা চলছে, তখন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার টেবিলে সমঝোতার চেষ্টা করছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদল।
এর আগে গত সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে প্রথম দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কোনো সমাধান ছাড়াই ওই বৈঠক শেষ হয়।
আরও পড়ুন: নিরাপদ আশ্রয়ে জাহাজের নাবিকরা, নেওয়া হচ্ছে পোল্যান্ডে
পরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সহযোগী ভ্লাদিমির মেডেনস্কি জানিয়েছিলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই বেলারুশ-পোলিশ সীমান্তে রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
বেলারুশ সীমান্তে সোমবারের বৈঠকে রুশ প্রতিনিধি দলের প্রধান ছিলেন তিনি। এই রুশ রাজনীতিবিদ বলেন, আমরা বৈঠক এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এখানে চুক্তির মতো কিছু একটি আছে বলা যায়।
ওইদিন মিখাইলো পডোলিয়াক বলেন, দুপক্ষের মধ্যে প্রথম দফা আলোচনা শেষ হয়েছে। তাদের প্রথম লক্ষ্য অস্ত্রবিরতি ও যুদ্ধের অবসান নিয়ে কথা হয়েছে। কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোডম্যাপ আকারে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আরো পরামর্শ করতে প্রতিনিধিরা রাজধানীতে ফিরে গেছেন। সিদ্ধান্ত নিতে তারা আরেক দফা আলোচনায় বসবেন।