আলোচিত ওয়ার্ন, সমালোচিত ওয়ার্ন
March 05, 2022 at 06:39AM
from somoynews.tv | RSS Feed
ক্রিকেট বিশ্বে যে কয় জন লিজেন্ডের জন্ম হয়েছে, তাদের মধ্যে অন্যতম অস্ট্রেলিয়ান লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্ন। লেগ স্টাম্পের বাইরের দিকের বল অফ স্টাম্পে হিট করে যেমন তিনি লেখার মাঠে আলোচিত ছিলেন, তেমনি নারীসঙ্গ, মাদক, বিদ্রোহ, মাঠে ধূমপান ইত্যাদি চরিত্র নিয়ে হয়েছেন সমালোচিত।
খেলার মাঠের শেন ওয়ার্নকে কেউ তুলনা করতে চাননা। তার স্পিন জাদুতে ভড়কে যেতো তার সময়কার সেরা ব্যাটাররাও। তবে জাদুকরী বোলিংয়ের বাইরে ওয়ার্নার ছিলেন বিস্ময়কর চরিত্রের অধিকারী। মাঠের জাদুকর মাঠের বাইরের একাধিক কর্মকান্ডে হয়েছেন বেশ কয়েকবার সমালোচিত। তার নাম জড়িয়েছে একাধিক কেলেঙ্কারিতে।
ওয়ার্নের প্রথম স্ত্রী সিমোনে কাল্লাহান। বিয়ে হয় ১৯৯৫ সালে। দুই ভিন্ন রঙের চোখ থাকা ওয়ার্নের সঙ্গে সিমোনের বিবাহবিচ্ছেদ হয় ২০০৫ সালে। কিন্তু তাদের সম্পর্কে চিড় বোধহয় ধরেছিল ৫ বছর আগেই। ২০০০ সালে অস্ট্রেলিয়ার সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব কেড়ে নেওয়া হয় ওয়ার্নের। কারণ, এক ব্রিটিশ নার্সকে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা পাঠিয়েছিলেন তিনি।
সিগারেট খেতেন ওয়ার্ন। একটি ছেলে সেই ছবি তুলে নিয়েছিল। সেই ‘অপরাধে’ ছেলেটিকে মারধর করেন ওয়ার্ন।
ওয়ার্নের সিগারেট প্রেমের কথা জানা যায় তার এক সময়ের সতীর্থ মাইকেল ক্লার্কের কাছ থেকে। ২০০৬ সালে অ্যাশেজ সিরিজের আগে এক অনুশীলন ক্যাম্পে যাচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া দল। সেই সময় শুধু প্রয়োজনীয় জিনিস ছাড়া বাকি সব কিছু নিয়ে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। ওয়ার্ন বেছে নিয়েছিলেন সিগারেট।
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক ক্লার্ক এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ওয়ার্ন সিগারেট খেতে পছন্দ করে। ও সেই ক্যাম্পে যাওয়ার আগে জানিয়ে দিয়েছিল, সিগারেট ছাড়া যাবে না। ওয়ার্ন তিন জোড়া অন্তর্বাস এবং মোজার বদলে সিগারেট নিয়ে গিয়েছিল।’
আরও পড়ুন: পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেলেন আরেক জাদুকর: মাশরাফী
১৯৯৭ সালে লন্ডনে অ্যাশেজ খেলতে গিয়েও সিগারেট খেতে দেখা গিয়েছিল ওয়ার্নকে। পাশে দাঁড়িয়েছিলেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। ২২ বছরের ক্রিকেট জীবনে সিগারেট ছাড়েননি ওয়ার্ন। এক ‘তামাক বিরোধী’ সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন তিনি। সিগারেট ছেড়ে দেওয়ার চুক্তি ছিল তাদের সঙ্গে। কিন্তু চার মাসের মধ্যে সেই চুক্তি ভেঙে যায়। কারণ বার্বাডোজে গিয়ে সিগারেট খেতে দেখা গিয়েছিল তাকে।
২০০৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। সেই সময় সংবাদমাধ্যমে ফের সমালোচনার মুখে পড়েন ওয়ার্ন। অভিযোগ ওঠে আবার এক নারীকে যৌনবার্তা পাঠিয়েছেন তিনি। ইংরেজ অভিনেত্রী এলিজাবেথ হার্লেকে ২০১০ সালে চুমু খেতে দেখা যায় ওয়ার্নকে। হার্লের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার সময় মেলবোর্নের এক বিবাহিত ব্যবসায়ীকে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা পাঠানোর খবর সামনে আসে। কিন্তু ঘটা করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়ে ওয়ার্নের বাড়িতে থাকতে আসেন হার্লে। ২০১১ সালে তাদের বাগদান হবে বলেও জানান হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি।
শুধু ব্যক্তিগত জীবনেই নয়, ওয়ার্ন বিতর্কে জড়িয়েছেন তার কর্মজীবনেও। ১৯৯৮ সালে জানা যায়, তিন বছর আগে শ্রীলঙ্কার এক ব্যক্তিকে টাকার বিনিময় পিচ এবং আবহাওয়া সম্পর্কে তথ্য দিয়েছিলেন ওয়ার্ন। নিজের আত্মজীবনীতেও সেই কথা উল্লেখ করেছিলেন তিনি। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপের আগে দু’ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয় ওয়ার্নকে। এক সংবাদমাধ্যমকে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গার নামে খারাপ কথা বলেন তিনি। সেই কারণে আইসিসি তাকে নির্বাসিত করেছিল দুই ম্যাচের জন্য।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে খেলা চলাকালেই বোমা হামলা,পর্যবেক্ষণে অস্ট্রেলিয়া
২০০৩ বিশ্বকাপ শুরুর আগের দিন বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল ওয়ার্নকে। ডোপ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ২০১৩ সালে বিগ ব্যাশ লিগে খেলার সময় এক ক্রিকেটারকে খারাপ কথা বলা, তার শরীরে অশালীনভাবে হাত দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ওয়ার্নের বিরুদ্ধে। সেই কারণে এক ম্যাচের জন্য নির্বাসন এবং সাড়ে চার হাজার ডলার জরিমানা দিতে হয় তাকে।
এত কিছুর পরেও শতাব্দীর সেরা ডেলিভারির শিল্পী ওয়ার্ন। সমালোচনার চেয়ে ১৯৯৩ সালে ম্যানচেস্টারের অ্যাশেজে ইংল্যান্ডের মাইক গ্যাটিংকে করা ওয়ার্নের বলের দৃশ্য হৃদয়ে আটকে থাকবে ক্রিকেট ভক্তদের মাঝে। ক্রিকেটে শেন ওয়ার্নের পদচারণা ১৯৯২ সালে। ক্যারিয়ারে ১৪৫ টেস্ট খেলে মোট ৭০৮ উইকেট নিয়েছেন ওয়ার্ন। ওয়ানডে ক্রিকেটে ১৯৪ ম্যাচ খেলে ২৯৩ উইকেট গিয়েছে ওয়ার্নের ঝুলিতে। এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার ২০০৫ সালে ওয়ানডে ও ২০০৭ সালে টেস্ট ক্রিকেট মাঠ থেকে অবসর নেন। আর ২০২২ সালে এসে বিদায় নিলেন পৃথিবী থেকে।