অবশেষে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা জুটি ভাঙলেন শরিফুল


March 18, 2022 at 11:41PM
from jagonews24.com | rss Feed

অবশেষে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা জুটি ভাঙতে পারলেন পেসার শরিফুল ইসলাম। টেম্বা বাভুমা আর রাশি ফন ডার ডুসেন মিলে বিপর্যয় কাটিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে জয়ের রাস্তায় তুলে দিতে যাচ্ছিলেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরও যখন এই জুটি ভাঙা যাচ্ছিল না, অবশেষে শরিফুল এসে ভাঙলেন জুটিটি।

৩৬ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর ৮৫ রানের জুটি গড়েছিলেন প্রোটিয়া অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা এবং রাশি ফন ডার ডুসেন। অবশেষে ২৭তম ওভারে নিজের ৬ষ্ঠ ওভার বল করতে এসে উইকেট নিলেন শরিফুল। তার বলে উইকেটের পেছনে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দেন প্রোটিয়া অধিনায়ক।

এ রিপোর্ট লেখার সময় দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর ২৭.২ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ১২৪ রান। ৬৫ রান নিয়ে রাশি ফন ডার ডুসেন এবং ১ রান নিয়ে ব্যাট করছেন ডেভিড মিলার।

তাসকিনের এক ওভারে কাঁপন ধরে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপে। টপ অর্ডারের দুই ব্যাটারকে সাজঘরে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। ৩৬ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর অবশ্য এখন ম্যাচে ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ব্যাটার টেম্বা বাভুমা এবং রাশি ফন ডার ডুসেন।

দ্রুত ৩ উইকেট হারানোর পর প্রোটিয়ারা প্রথমে নজর দিয়েছিল উইকেট ধরে রাখার দিকে। অধিনায়ক বাভুমা এবং অভিজ্ঞ ব্যাটার রাশি ফন ডার ডুসেন প্রাথমিক চেষ্টায় সফল হওয়ার পর এখন রানের গতি বাড়ানোর দিকেও নজর দিচ্ছেন তারা।

 

শরিফুলের বোলিং তোপের পরপরই বোলিং আক্রমণে নিয়ে আসা হয় ডান-হাতি পেসার তাসকিন আহমেদকে। সাফল্য এনে দিতে খুব বেশি সময় নেননি তিনি। একই ওভারে পরপর প্রোটিয়াদের টপ অর্ডারের দুই ব্যাটারকে সাজঘরের পথ দেখিয়ে দিলেন তিনি।

শরিফুলের বলে ১৮ রানের মাথায় পড়ে প্রোটিয়াদের প্রথম উইকেট। তাসকিনের বলে ৩৬ রানের মাথায় পড়লো দ্বিতীয় উইকেট। ৮ম ওভারের ১ম বলে উইকেট পড়ার পর চতুর্থ বলে পড়লো আরো এক উইকেট। এবার প্রোটিয়াদের নির্ভরযোগ্য ব্যাটার এইডেন মারক্রামকে মিরাজের ক্যাচে পরিণত করলেন তাসকিন।

ব্যক্তিগত ২১ রানে তাসকিনের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন অপর ওপেনার কাইল ভেরাইনি। তাসকিনের ওভারের প্রথম বলে রিভিউ নেয়ারও সুযোগ পেলেন না তিনি। আম্পায়ার আঙ্গুল তুলতেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন তিনি। ওভারের ৪র্থ বলটি ছিল ফুলার লেন্থ। ক্যাচ ওঠে পয়েন্টের কাছে। মিরাজ খুব সহজেই সেটিকে তালুবন্দী করলেন।

৩১৫ রানের বিশাল লক্ষ্য। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকা ঘরের মাঠে সব সময়ই শক্তিশালী। কিন্তু উল্টোদিকে ওয়ানডে ফরম্যাটটা বাংলাদেশ ভালো খেলে এবং এই ফরম্যাটে প্রোটিয়াদের হারানোর বেশ কয়েকবারের অভিজ্ঞতাও আছে টাইগারদের।

সে কারণেই সাকিব-তামিমরা বলে আসছিলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় অন্তত একটি জয় চাই। সে লক্ষ্যে প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ব্যাটাররা নিজেদের কাজটি করে দিয়েছেন। এবার বোলারদের হাতে ম্যাচ। নিজেদের প্রমাণ করার পালা।

সে লক্ষ্যেও দারুণ শুরু হলো বাংলাদেশের। চতুর্থ ওভারেই প্রোটিয়া ওপেনার জানেমান মালানের উইকেট তুলে নিলেন বাঁ-হাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। তার বলে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে উইকেটের পেছনে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দেন মালান। দুর্দান্ত ক্যাচটি তালুবন্দী করেন মুশফিকুর রহিম।

প্রায় মাটিতে লাগতে যাওয়া বলটি এক ঝলকে গ্লাভসে তুলেন টাইগার উইকেটরক্ষক। দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংসে প্রথম আঘাত আসলো দলীয় ১৮ রানের মাথায়।

আম্পায়ারও অবশ্য নিশ্চিত ছিলেন না ক্যাচের ব্যাপারে। সফট সিগন্যাল ‘নটআউট’ দিয়ে থার্ড আম্পায়ারের কাছে পাঠালেন। তাতে দেখা গেলো বল ব্যাটে লেগেছে, ক্যাচও পরিষ্কারভাবেই গ্লাভসবন্দী করেছেন মুশফিক।

এর আগে টপ অর্ডারের বুদ্ধিদীপ্ত আর হিসেবি ব্যাটিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দিবারাত্রির প্রথম ওয়ানডেতে ৭ উইকেটে ৩১৪ রানের বিশাল সংগ্রহ পেয়েছে বাংলাদেশ।

সেঞ্চুরিয়ানের সুপার স্পোর্টস পার্কে এই ম্যাচে টসভাগ্য সহায় ছিল না টাইগারদের। টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিং করার আমন্ত্রণ জানান দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা।

লুঙ্গি এনগিদির করা প্রথম ওভারে কোনো ঝুঁকি নেননি তামিম ইকবাল। ফলে ওই ওভারে কোনো রানও করতে পারেনি বাংলাদেশ। পরের ওভারে ২ রান নেন লিটন দাস। ফলে প্রথম ২ ওভারে মাত্র ২ রান তুলতে পারে সফরকারীরা।

তবে এনগিদির করা ইনিংসের তৃতীয় ওভারে ছক্কা দিয়েই রানের খাতা খুলেন তামিম। আপার কাটে বল বাউন্ডারির ওপারে আছড়ে ফেলেন বাংলাদেশ দলপতি।

বিরূপ কন্ডিশনে চোখ ধাঁধানো ব্যাটিংই করেছেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে খেলা উপমহাদেশের যে কোনো দলের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জের কথা মাথায় রেখেই এগিয়েছেন তামিম আর লিটন।

সেট হওয়ার পর হঠাৎ মারমুখী চেহারায় হাজির লিটন। তার নিজস্ব ঢংয়ের ব্যাটিংয়ে ইনিংসের ১৯তম ওভারে প্রোটিয়া স্পিনার কেশভ মহারাজকে টানা তিন বলে ছক্কা আর দুটি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন লিটন।

জুটিটা সেঞ্চুরির দিকে এগোচ্ছিল। এমন সময়ে হঠাৎ আন্দেলো ফেহলুখায়োর একটি ডেলিভারি ক্রস করতে গিয়ে লাইন মিস করে বসেন তামিম। বল প্যাডে আঘাত হানলে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার।

তামিম অবশ্য রিভিউ নিয়েছিলেন। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। ৬৭ বলে ৩ চার আর ১ ছক্কায় তামিমের ৪১ রানের ইনিংসটি থেমেছে এলবিডব্লিউয়ে। ৯৫ রানে ভাঙে ওপেনিং জুটি।

তবে তার আগে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশের যে কোনো উইকেটে জুটির রেকর্ড গড়ে ফেলেন তামিম আর লিটন। আজই অবশ্য সাকিব আর রাব্বি ১১৫ রানের জুটিতে তামিম-লিটনের রেকর্ডটিও পেছনে ফেলেছেন।

আজকের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশের যে কোনো উইকেটে সেরা জুটিটি ছিল মুশফিকুর রহিম আর ইমরুল কায়েসের। ২০১৭ সালে তৃতীয় উইকেটে ৯৩ রানের জুটি গড়েছিলেন তারা।

তামিম ফিফটিবঞ্চিত হলেও তার সঙ্গী লিটন ঠিকই হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন, ৬৬ বলে। তবে ৫০ ছোঁয়ার (৫ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায়) পরের বলেই কেশভ মহারাজের বলে বোল্ড হয়ে যান এই ওপেনারও।

বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ মুশফিকুর রহিম (৯)। স্লগ সুইপ করতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে বল ভাসিয়ে দেন, হন মহারাজের দ্বিতীয় শিকার।

এরপরই সাকিব আল হাসান আর ইয়াসির রাব্বির ঝড়ো জুটি। ৪১ বলেই যে জুটি পূরণ করে পঞ্চাশের ঘর। পরের পঞ্চাশের জন্য লেগেছে আরও কম বল। ৭৩ বলে সেঞ্চুরি জুটি পূরণ করেন সাকিব-রাব্বি।

চতুর্থ উইকেটে ৮২ বলে ১১৫ রানের জুটি। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশ এর আগে ওয়ানডেতে এত বড় জুটি তো গড়তে পারেইনি, দেখেনি এমন ঝড়ো ব্যাটিংও।

সাকিব আর রাব্বির ঝড়ো জুটিতেই মূলত চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহের ভিত পেয়ে যায় বাংলাদেশ। তবে ৩ উইকেটে ২৩৯ রানে পৌঁছে যাওয়া টাইগাররা তিন বলের ব্যবধানে দুই মারকুটে ব্যাটারকেই হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে।

লুঙ্গি এনগিদির করা ইনিংসের ৪২তম ওভারের পঞ্চম বলে এলবিডব্লিউ হন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৫০তম ফিফটির মাইলফলক ছোঁয়া সাকিব। ৬৪ বলে ৭ চার আর ৩ ছক্কায় তিনি করেন ৭৭ রান।

পরের ওভারের প্রথম বলে কাগিসো রাবাদার গতিতে বিভ্রান্ত হয়ে ফিরতি ক্যাচ হন ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি পাওয়া রাব্বিও (৪৪ বলে ৪ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় ৫০)।

এরপর আফিফ হোসেন শুরুটা ভালো করলেও ১৩ বলে ১৭ রানের বেশি যেতে পারেননি। ১৭ বলে একটি করে চার-ছক্কায় ২৫ রান করে আউট হন মাহমুদউল্লাহ। শেষদিকে মেহেদি হাসান মিরাজের ১২ বলে ২ ছক্কায় ১৯ রানে ৩১৪ পর্যন্ত গেছে বাংলাদেশ।

দক্ষিণ আফ্রিকার মার্কো জানসেন আর কেশভ মহারাজ নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।

আইএইচএস/


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url