নবজাতকের কপাল কাটায় কোটি টাকার মামলা


February 03, 2022 at 05:23AM
from somoynews.tv | RSS Feed

ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুর মহল্লার আল মদিনা হাসপাতালে অস্ত্রোপচারকালে নবজাতকের কপাল কেটে ফেলার ঘটনায় এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের মামলা করা হয়েছে।

ফরিদপুরের যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে মামলাটি করা হয়। মামলার বাদীরা হচ্ছেন রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দক্ষিণ উজানচর মৈজুদ্দিন মণ্ডলপাড়া গ্রামের মো. শফি খান, তার স্ত্রী রূপা আক্তার এবং নবজাতক  মুসকান বিনতে শফি (নাবালিকা)।


মামলায় মূল বিবাদী করা হয়েছে ছয়জনকে। এরা হলেন: আল মদিনা প্রাইভেট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাকারিয়া মোল্লা পলাশ, ব্যবস্থাপক মো. আল হেলাল মোল্লা টগর ও মো. গোলাম কিবরিয়া, চেয়ারম্যান রহিমা রহমান এবং হাসপাতালের দুই কর্মচারী চায়না আক্তার ও মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান সবুজ। এ ছাড়া মোকাবিলা বিবাদী করা হয়েছে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসককে।


বাদীপক্ষের আইনজীবী মানিক মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন দিয়েছেন এবং মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন আগামী ৩ মার্চ।


আরও পড়ুন: ফরিদপুরে আয়া দিয়ে প্রসূতির সিজার, কপাল কাটল নবজাতকের


এজাহারে বলা হয়েছে, আল মদিনা হাসপাতালে সন্তানের স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। কিন্তু  প্রসবকালীন হাসপাতালে কর্তব্যরত কোনো চিকিৎসক ছিলেন না, কোনো প্রশিক্ষিত এবং দক্ষ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ কেউ ওখানে ছিলেন না। প্রসবের সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নবজাতকের বাম কপালে তিন ইঞ্চি পরিমাণ ক্ষতের সৃষ্টি হয় এবং প্রসূতির শরীরে জখম হয়, আজীবন ওই ক্ষত তাদের বহন করে বেড়াতে হবে।


এজাহারে আরও বলা হয়, বিবাদীদের ভুল চিকিৎসার কারণে এবং বাদীদের ন্যস্ত বিশ্বাসের অপলাপ ঘটিয়ে প্রতারণা ও তঞ্চকতার আশ্রয় নিয়ে অপচিকিৎসা এবং মোকাবিলা দুই বিবাদীর (সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসক) যথাযথ দায়িত্ব -কর্তব্য এবং অর্পিত দায়িত্ব পালনে অবহেলার মাধ্যমে ভুল চিকিৎসার সুযোগ পেয়ে এবং নিজ দায়িত্ব ও এখতিয়ারবহির্ভূত পদক্ষেপ গ্রহণ করায় বাদীগণের  এ যাবৎকালের চিকিৎসা ব্যয় দুই লাখ টাকার ঊর্ধ্বে হয়েছে এবং আরও ব্যয়ভার বহন করতে হবে।


আরও পড়ুন: ‘ভুয়া’ চিকিৎসকের অপারেশনে মা ও নবজাতকের মৃত্যু


এ ব্যাপারে আল মদিনা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকারিয়া মোল্লার বোন আসমা বেগম বলেন, ক্ষতিপূরণের মামলার ব্যাপারে তিনি বা তার পরিবার কিছু জানেন না।


এর আগে ওই নবজাতকের বাবা বাদী হয়ে গত ১৬ জানুয়ারি ফরিদপুর  কোতোয়ালি থানায় আরেকটি মামলা করেন।মামলায় আল মদিনা প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেয়ারম্যান রহিমা রহমান, তার দুই ছেলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাকারিয়া মোল্লা পলাশ, পরিচালক মো.আল হেলাল মোল্লা টগর এবং ওই হাসপাতালের আয়া চায়না বেগমকে আসামি করা হয়। এতে আসামিদের বিরুদ্ধে  চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগ এনে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানানো হয়।


প্রসঙ্গত, গত ১৫ জানুয়ারি শহরের আল মদিনা প্রাইভেট হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনাটি  শহরে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

]]>
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url