ওবায়দুল কাদেরের সাজানো নির্বাচন মানি না: কাদের মির্জা
February 08, 2022 at 06:04AM
from somoynews.tv | RSS Feed
সপ্তম ধাপে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় আটটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন বসুরহাট পৌরসভার আলোচিত মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।
সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে আটটায় ১৫ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডের লাইভ বক্তৃতায় কাদের মির্জা নিজের বড় ভাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে ইঙ্গিত করে জানিয়েছেন, এই পাতানো নির্বাচন তিনি মানেন না।
এসময় কাদের মির্জা বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে এই নির্বাচন হবে জানলে এই নির্বাচনের সঙ্গে জড়াতাম না। এই এলাকায় ডিসি–এসপির সাজানো নির্বাচন আজ এখানে হয়ে গেছে। চরের ভূমি দখলের মতো ভোটকেন্দ্র দখল হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে মন্ত্রী মহোদয়ের (ওবায়দুল কাদের) তিন ভাগনেকে জেতানোর জন্য যা যা করা দরকার, তা করা হয়েছে।’
ওবায়দুল কাদেরের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘গোলাগুলি করে হিন্দু ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে না দিয়ে এখানে (চর পার্বতী ইউপি) জামায়াতের প্রার্থীকে জেতানোর জন্য সহযোগিতা করেছে এখানকার প্রশাসন। দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত এখানে চেষ্টাও করেছে জামায়াতের প্রার্থীকে হারিয়ে তার ভাগনেকে জেতানোর জন্য। সে ৩ নম্বর ছিল বিধায় সেটা সম্ভব হয়নি।'
আরও পড়ুন: ইউপি নির্বাচন: সাতকানিয়ায় সহিংসতায় নিহত ২
কাদের মির্জা বলেন, ‘চর ফকিরাতে সকাল বেলায় তিনটি কেন্দ্র দখল করে মন্ত্রীর আরেক ভাগনে ফুফাতো বোনের ছেলে জয়দল হককে সেখানে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। তাহলে দেখেন, এই নির্বাচন করার কী দরকার ছিল। আপনি ঘোষণা দিয়ে নিয়ে যেতেন, আপনার খেয়াল খুশিমতো জিতিয়ে নিতেন। মুছাপুরে আইয়ুব আলী জিতেছেন, কান্নাকাটি করে প্রশাসনকে টাকা দিয়ে।
তিনি আরও বলেন, ওবায়দুল কাদেরের সাজানো নির্বাচন আমরা মেনে নিতে পারি না। আমরা আগামীকাল আমাদের নেতাদের নিয়ে বসব, সিদ্ধান্ত নেব। আজ আমাকে দাফন করেছে কোম্পানীগঞ্জ। আমার ৪৮ বছরের রাজনীতি। জীবনে রাজনীতিতে কোনো পদ পদবিতে যেতে পারিনি, সে দেয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করতে গেছি, সেখানেও পড়ালেখা করতে দেয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের জন্য রাজনীতি আসেনি। রাজনীতিতে অস্ত্রের প্রয়োজন, টাকার প্রয়োজন। ওবায়দুল কাদের সাহেবেরা পারে না, এমন কোনো কাজ নেই। এটা তাদের পক্ষেই সম্ভব। আমার ছেলেকে দুবার মেরেছে। একবার সহানুভূতিও দেখায়নি। ওবায়দুল কাদের এত হিংস্র। তার ভাগনেকে দিয়ে আমার ছেলের ওপর আঘাত করেছে রামপুরে।’
আরও পড়ুন: ইউপি নির্বাচন: দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, নিহত ২
সপ্তম ধাপে নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ২ ভাগিনা চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছেন। এছাড়া একটি ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থিত প্রার্থী জয়লাভ করেছেন।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১ নং সিরাজপুর ইউনিয়নে বসুরহাট পৌরসভা মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা সমর্থিত অটোরিক্সা প্রতীকে নাজিম উদ্দিন মিকন, ২ নং চরপার্বতী ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত মোটরসাইকেল প্রতীকে মোহাম্মদ হানিফ প্রকাশ কাজী হানিফ, ৩ নং চরহাজারী ইউনিয়নে মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা সমর্থিত আনারস প্রতীকে এ জেড এম মহি উদ্দিন সোহাগ,৪ নং চরকাকড়া ইউনিয়নে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল সমর্থিত চশমা প্রতীকে মোঃ হানিফ সবুজ, ৫ নং চরফকিরা ইউনিয়নে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল সমর্থিত
এবং সেতুমন্ত্রীর ভাগিনা আনারস প্রতীকে মোঃ জায়দুল হক কচি, ৬ নং রামপুর ইউনিয়নে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল সমর্থিত এবং সেতুমন্ত্রীর ভাগিনা আনারস প্রতীকে সিরাজিস সালেকিন রিমন, ৭ নং মুছাপুর ইউনিয়নে বসুরহাট পৌরসভা মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা সমর্থিত আনারস প্রতীকে আইয়ুব আলী ও ৮ নং চরএলাহী ইউনিয়নে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল সমর্থিত আনারস প্রতীকে আব্দুর রাজ্জাক জয়লাভ করেন। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আরিফুর রহমান রাতে জয়ী প্রার্থীদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।