হাজারো রহস্যে ঘেরা ব্যাবিলনের ‘শূন্য উদ্যান’
January 03, 2022 at 05:15AM
from somoynews.tv | RSS Feed
আকাশ থেকে নেমে আসা সারি সারি সবুজের স্নিগ্ধতা আর বাহারি ফুলের সৌরভ। বলছি ব্যাবিলন নগরীর ঝুলন্ত বাগানের কথা। কখনও কেউ এই ঝুলন্ত বাগান না দেখলেও এর নাম শোনেনি এমন মানুষ খুব কমই আছে। যুগ যুগ ধরে হাজারো রহস্যে ঘেরা হেলেনীয় সভ্যতার এই স্থাপনা।
খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ সালে ইরাকের ইউফ্রেটিস নদীর তীরে দ্বিতীয় রাজা নেবুচাঁদনেজা তার রাণী আমিতিসের মনোরঞ্জনের উদ্দেশে ওই ঝুলন্ত বাগানটি নির্মাণ করেন। সম্রাটের উপাসনালয়ের ছাদে নির্মিত স্থাপনাটি ছিল পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বাগান। একে ঝুলন্ত উদ্যান বলার কারণ হচ্ছে, এর ভিত্তিস্থাপন করার পর মাটি থেকে এর উচ্চতা ছিল ৮০ ফুট। জানা গেছে, প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক দিনরাত পরিশ্রম করে তৈরি করেছিল এই উদ্যান। আর এর পরিচর্যায় নিয়োজিত ছিল ১ হাজারের বেশি মালী।
পৌরাণিক গবেষণা থেকে জানা যায়, ৫ থেকে ৬ হাজার প্রজাতির ফুলের চারা রোপণ করা হয়েছিল ওই ঝুলন্ত বাগানে। প্রতিদিন ৮২ হাজার গ্যালন পানি প্রয়োজন হতো বাগানে, যা একটি পাইপের সাহায্যে জলাশয় থেকে তোলা হতো। ৫১৪ খ্রিস্টাব্দে পার্শ্ববর্তী পারস্য রাজ্যের সাথে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এই সুন্দর উদ্যানটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: ২ মিলিয়ন হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট বাতিল!
ব্যাবিলন নগরের আরেকটি আকর্ষণ ছিল টাওয়ার অব বাবেল। ধারণা করা হয়, প্রাচীন সুমেরীয় সভ্যতার মানুষ স্বর্গ ছোঁয়ার জন্য টাওয়ারটি নির্মাণ করেছিল।
ঝুলন্ত বাগানের নগরীর এই ব্যবিলনকেই বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে জাতিসংঘের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। পৃথিবীর প্রাচীন সপ্তাশ্চার্যগুলোর মধ্যে এটি একটি। হাম্মুরাবি ও নেরুচাঁদনেজারের মতো সফল শাসকদের অধীনে ব্যাবিলন শহর ও ব্যাবিলীয় সভ্যতার সৃষ্টিশীলতার গভীরতার প্রতিনিধিত্ব করে এটি। প্রাচীন ব্যাবিলন নগরী মারাত্মক দুর্বল অবস্থায় আছে বলে সতর্ক করে দ্রুত এর সংরক্ষণের তাগিদ দিয়েছে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি।
]]>