তবুও নিজেকে নেতা মানেন কোহলি
February 01, 2022 at 05:23AM
from somoynews.tv | RSS Feed
সীমিত ওভারের ক্রিকেট থেকে আগেই সরে দাঁড়িয়েছিলেন। সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ হারের পর ক্রিকেটের মর্যাদার এ ফরম্যাট থেকেও নিজেকে গুটিয়ে ফেলেন বিরাট কোহলি। তবে অধিনায়কত্ব না থাকলেও নিজেকে এখনো নেতা মানেন বিশ্বসেরা এই ক্রিকেটার।
সম্প্রতি এক ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কখন নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে হয়, সেটা সম্পর্কে ধারণা থাকা একজন অধিনায়কের সবচেয়ে বড় গুণ। তিনি বলেন, অধিনায়ক না থাকার সময়ও নিজেকে নেতা ভাবতাম, যাতে দলকে জেতাতে পারি। অতীতের অনেক অধিনায়কের থেকে এ ব্যাপারে শিক্ষা নিয়েছেন বলে জানান কোহলি।
কোহলি আরও বলেন, নেতা হতে গেলে সব সময় যে অধিনায়ক হতে হবে তার কোনো মানে হয় না। আমাদের সেরা অধিনায়ক ধোনি যখন সাধারণ ক্রিকেটার হিসেবে দলে ছিল, তখন এমন নয় যে সে নেতা ছিল না। তার থেকে প্রতিটা মুহূর্তে আমরা পরামর্শ নিতাম। জয়-পরাজয় আমাদের হাতে থাকে না। কিন্তু প্রতিদিন নিজেদের উন্নতি করা কিংবা উৎকর্ষের দিকে এগিয়ে যাওয়া এটা অল্প দিনে হয় না। যদি এটাকে নিজের ধর্ম হিসেবে পালন করা যায়, তাহলে খেলোয়াড় জীবনের বাইরেও এটা আপনাকে নানাভাবে সাহায্য করবে।
তিনি বলেন, কী অর্জন করতে চাই, সেটা সম্পর্কে সবার আগে ধারণা থাকতে হবে। তারপর সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছি কি না, সেটার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রতিটা জিনিসের একটা নির্দিষ্ট সময় এবং মেয়াদ রয়েছে। সেটা সম্পর্কে নিজেকে জানতে হবে। ব্যাটার হিসেবে আপনি হয়তো দলকে অনেক বেশি সাহায্য করতে পারেন। আমিও সেটা ভেবেই নিজেকে নিয়ে গর্বিত।
আরও পড়ুন : হোল্ডারের ডাবল হ্যাটট্রিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সিরিজ জয়
এরপরই কোহলি বলেন, কখন সরে যেতে হবে এটাও নেতৃত্বের একটা বড় গুণ। সঠিক সময় বেছে নিতে হবে। ঠিক কোন সময় দলের নির্দেশ দেওয়ার জন্য অন্য একজনকে প্রয়োজন সেটা বুঝতে হবে। পাশাপাশি দলের সংস্কৃতি যাতে একই রকম থাকে সেটাও খেয়াল রাখতে হবে। অন্য ভূমিকায় থেকেও দলকে সাহায্য করা যায়। খেলোয়াড় হিসেবে প্রত্যেককেই সব ধরনের ভূমিকার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে এবং সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। আমি বেশ অনেক দিন ধোনির অধীনে খেলেছি। তারপর অধিনায়ক হয়েছি। কিন্তু আমার মানসিকতা সব সময় একই রকম ছিল। দলের খেলোয়াড় হিসেবে আমি অধিনায়কের মতোই ভাবতাম। চাইতাম দল জিতুক। আমি নিজেই নিজের নেতা ছিলাম।
অধিনায়ক হিসেবে কী লক্ষ্য ছিল সেটাও খোলাসা করেছেন সাবেক এ অধিনায়ক। তিনি বলেন, প্রথমবার অধিনায়ক হওয়ার সময় আমার লক্ষ্য ছিল দলে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন আনা। আমি জানতাম দলের মধ্যে দক্ষতার কোনো অভাব নেই। কিন্তু প্রতিভাকে সঠিকভাবে কাজে লাগান ছিল আমার লক্ষ্য। নিজের দর্শনকে একটা গণ্ডির মধ্যে আটকে রাখতে চাইনি। সেটাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছি। তা ছাড়া, দলের মধ্যে একটা সংস্কৃতি তৈরি করতে হলে প্রত্যেক দিন কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। এটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। কৌশলের থেকেও দলের সাংস্কৃতিক পরিবর্তন বেশি জরুরি।
]]>