ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ অস্বীকার চীনের
January 15, 2022 at 05:00AM
from somoynews.tv | RSS Feed
যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করার কথা অস্বীকার করেছে চীন। এর আগে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এক চীনা এজেন্টের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করেছে দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআইফাইভ।
নিরাপত্তা বাহিনী বলছে, বর্তমান আইনপ্রণেতা ও এমপিপ্রত্যাশীদের সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির হয়ে সম্পর্ক স্থাপন করেছেন ক্রিস্টাইন চিং কুই লি নামের এক চীনা নারী। লেবার দলীয় এমপি ব্যারি গার্ডিনারসহ বিভিন্ন রাজনীতিবিদদের তিনি অনুদান ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।
নিজের জন্য এই লেবার নেতা চার লাখ ২০ হাজার পাউন্ড গ্রহণ করেছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে। লন্ডনের চীনা দূতাবাস বলছে, যুক্তরাজ্যের চীনা কমিউনিটিকে ভীতিপ্রদর্শন ও তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে এমআইফাইভ এমন অভিযোগ দিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে চীনা দূতাবাস জানায়, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিতে বিশ্বাস করে চীন। বিদেশি পার্লামেন্টে প্রভাব বিস্তারের দরকার নেই আমাদের। চীনা কমিউনিটির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের বিরোধিতা করছি আমরা।
ক্রিস্টাইন চিং কুই লি বলে, ব্রিটিশ চীনা নাগরিকদের প্রতিনিধিত্ব করতে ও বৈচিত্র বাড়াতে পার্লামেন্টের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা। কিন্তু এমআইফাইভ বলছে, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ইউনাইটেড ফ্রন্ট ওয়ার্ক ডিপার্টমেন্টের গোপন সমন্বয়ে তার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। চীন ও হংকংয়ের বিদেশি নাগরিকদের তহবিলে তার তৎপরতা বলেও দাবি করা হচ্ছে।
এর আগে হাউস অব কমনসের স্পিকার লিন্ডসে হোলির কার্যালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্যদের জন্য একটি মেমো ইস্যু করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, এমআই৫-এর তদন্তে পাওয়া গেছে, চাইনিজ কমিউনিস্ট পার্টির হয়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ তৎপরতায় জড়িত ওই নারী।
ব্রিটিশ মেমো বলছে, ওই চীনা নাগরিকের অবস্থান অজ্ঞাত। তিনি আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন কার্যক্রমে জড়িত। হংকং ও চীনভিত্তিক বিদেশি নাগরিকদের পক্ষে কাজ করতে পার্লামেন্ট সদস্যদের অনুপ্রাণিত ও তাদের আর্থিক সুবিধাও দিয়েছেন।
এমআই৫ নিজেও পার্লামেন্ট সদস্যদের সতর্কবার্তা দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ওই নারীর সঙ্গে যারা যোগাযোগ করেছেন, তাদের উচিত তার সংযুক্ততা নিয়ে সতর্ক হওয়া। এতে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির অগ্রযাত্রাকে সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ব্রিটিশ পার্লামেন্টে চীনা গোয়েন্দার হানা
যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল দলের সাবেক নেতা ইয়ান ডানকান স্মিথ বলেন, এটি অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। তিনি ওই নারীকে চীনে পাঠিয়ে দেওয়ার দাবি করেন। আর এ নিয়ে হাউস অব কমন্সে একটি বিবৃতি দিতে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন।
উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং অঞ্চলে মনবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় চীনের বিরুদ্ধে সরব ডানকান স্মিথ। যে কারণে তার বিরুদ্ধে চীন সরকারের নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে।
রক্ষণশীল দলের আইনপ্রণেতা তোবিয়াস এলউডও হাউস অব কমনসে বিবৃতিতে সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চীনের কাছ থেকে আমরা এ রকম ক্ষতিকর হস্তক্ষেপই প্রত্যাশা করছিলাম। কিন্তু তারা সরাসরি পার্লামেন্টকে নিশানা করেছেন। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত সরকারের।
আরও পড়ুন: করোনা আক্রান্ত সন্দেহ হলেই ধাতব বাক্সে ঢোকাচ্ছে চীন!