নারীকে যৌননিপীড়ন: সেই চবিছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
December 03, 2021 at 10:55PM
from jagonews24.com | rss Feed
চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড় এলাকায় আনুমানিক ৩৫ বয়সী এক নারীকে শ্লীলতাহানি, ইভটিজিং ও যৌননিপীড়নে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমানের (২৫) বিরুদ্ধে জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় নগরের খুলশী থানায় দায়ের হওয়া মামলার অভিযোগপত্র তৈরি করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বাক্ষর করা অভিযোগপত্রটি শুক্রবার (৩ ডিসেম্বর) থানা থেকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) দিপলু কুমার বড়ুয়া।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযোগপত্রে থাকা একমাত্র আসামি মাহফুজ চবির শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নে। গত ২৬ অক্টোবর তিনি নগরের ব্যস্ততম জিইসি মোড় এলাকায় এক ভুক্তভোগী নারীকে ইভটিজিং ও শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ উঠে। ওই ঘটনায় মাহফুজকে একমাত্র আসামি করে খুলশী থানায় মামলা দায়ের হয়।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগী নারী তার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছোট বোনকে নিয়ে ঘটনার দিন ব্যাংকের কাজে বের হন। কাজ শেষে বিকেলে বাসায় ফেরার জন্য তারা জিইসি মোড় এলাকায় দাঁড়ান। সে মুহূর্তে একটি ছেলে এসে হঠাৎ তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করেন। সঙ্গে সঙ্গে দুই বোন মিলে তাকে আটক করেন। এরপর অভিযুক্ত ছেলেটি নিজেকে চবি শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেন এবং পরিচয়পত্র দেখান। উপস্থিত কয়েকজনের অনুরোধে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও পরে পরিবারের সবার সঙ্গে আলাপ করে ভুক্তভোগী নারী মামলা দায়ের করেন।
এদিকে, মামলা দায়েরের পর ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার তদারকিতে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন এসআই দিপলু। একপর্যায়ে অভিযোগের সত্যতা পান তদন্ত কর্মকর্তা। এরপর অভিযুক্ত মাহফুজকে একমাত্র আসামি করে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই দিপলু জাগো নিউজকে বলেন, ভুক্তভোগী নারীর দায়ের করা মামলার তদন্তে আসামির বিরুদ্ধে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিচারের আবেদন জানানো হয়েছে। মামলার পর থেকে আসামি পলাতক ছিল। তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা ইস্যুর আবেদন করা হয়েছে।
মিজানুর রহমান/এমআরআর