ফিরতে পারেননি সেন্টমার্টিনে আটকে পড়া পর্যটকেরা


December 06, 2021 at 06:56AM
from somoynews.tv | RSS Feed

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ এর ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বলবৎ থাকায় রোববার (৫ ডিসেম্বর) বিকেল ছয়টা পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে বেড়াতে গিয়ে আটকে পড়া এক হাজারের বেশি পর্যটক ফিরতে পারেননি। তবে দ্বীপে আটকে পড়া পর্যটকেরা ভালো রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরী।

গত শনিবার বিকেলে আবহাওয়া অধিদপ্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’ এর কারণে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করে।

এরপর দুর্ঘটনা এড়াতে টেকনাফ, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম থেকে সেন্টমার্টিন এই তিন নৌপথে চলাচলকারী সব ধরনের পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল উপজেলা প্রশাসন।

রোববার বিকেল পর্যন্ত আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়ার পাশাপাশি সতর্ক সংকেত প্রত্যাহার না করায় ওই তিনটি নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে কোনো জাহাজ সেন্টমার্টিন দ্বীপে যেতে না পারায় কোনো পর্যটক ফিরতে পারেনি। সাগর উত্তাল থাকায় যাত্রী নিয়ে কোনো ট্রলার সেন্টমার্টিন থেকে টেকনাফের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে অনুমতি দেননি স্থানীয় কোস্টগার্ড।

ঢাকার গাজীপুর থেকে পরিবারের আটজন সদস্যসহ বেড়াতে আসা ব্যবসায়ী হোসাইন হাসনাত বলেন, বেড়াতে এসে আটকে পড়ে গেলাম। ঘূর্ণিঝড়ের সংকেতের কথা শুনে প্রথমে ভয় পেলেও এখন আকাশে তারার ঝলমল দেখে প্রাণ জুড়ে গেছে। রাতের সেন্টমার্টিনে অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পেরে খুবই আনন্দ লাগছে। কি সুন্দর আমার এ দেশ। পরিচর্যা করলে পৃথিবীর যে কোনো রাষ্ট্রকে হার মানাতে পারবে এই প্রবাল দ্বীপটি।

দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ ও জয়নাল আবেদীন বলেন, ৩নং সতর্ক সংকেতের কারণে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকলেও সারাদিন প্রচণ্ড রোদ ছিল। তবে সাগর উত্তাল রয়েছে। দলবেঁধে পর্যটকেরা বিচরণ করছে সৈকতসহ বিভিন্ন এলাকায়। রাতে আকাশে প্রচুর তারা দেখা যাচ্ছে। সমুদ্রের পানি অন্যদিনের চাইতে চক চক করছে। এসব দেখতে পর্যটকরা সৈকতে ভিড় করছেন।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় (১৯.০° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৫,৮° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছে। এটি সোমবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫৫ কি. মি. দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৩৫ কি. মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৭০ কি. মি. দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৬০০ কি. মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কি. মি. এরমধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কি. মি. যা দমকা অথবা ঝড়োহাওয়ার আকারে ৬০ কি. মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরফলে সাগর উত্তাল রয়েছে। গভীর নিম্নচাপটির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালা সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে এবং বায়ু চাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে।

আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ: সৈকতে পর্যটককে কানধরে ওঠবস 

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গত ১৬ নভেম্বর থেকে প্রথমে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইনকে পরীক্ষামূলকভাবে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। এর পর থেকে ক্রমান্বয়ে সেন্টমার্টিন-কক্সবাজার, টেকনাফ-সেন্টমার্টিন ও সেন্টমার্টিন-চট্টগ্রাম এই তিন নৌপথে আরও সাত জাহাজ কেয়ারি সিন্দাবাদ, শহীদ সুকান্ত বাবু, এমভি ফারহানা ক্রুজ, এমভি পরিজাত, গ্রিনলাইন-১ ও কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস এবং সেন্টমার্টিন-চট্টগ্রাম নৌপথে বে-ওয়ান পর্যটক পরিবহন করে আসছিল। বর্তমানে এই তিন নৌপথে আটটি জাহাজ চলাচল করে আসছিল। এরমধ্যে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে ছয়টি এবং সেন্টমার্টিন-কক্সবাজার নৌপথ ও সেন্টমার্টিন-চট্টগ্রাম নৌপথে একটি করে জাহাজ চলাচল করে আসছিল।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) টেকনাফ অঞ্চলের পরিদর্শক আমজাদ হোসেন বলেন, শনিবার টেকনাফ থেকে সকালে ছেড়ে যাওয়া ছয়টি জাহাজ সন্ধ্যার দিকে টেকনাফের পথে ছিল। ওইদিন ছয়টি জাহাজে করে ১ হাজার ৬০৩ জন পর্যটক দ্বীপে বেড়াতে গেলেও পাঁচ শতাধিক পর্যটক স্বেচ্ছায় রাত্রিযাপনের জন্য সেন্টমার্টিন রয়েছেন। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়ার সতর্ক সংকেত বলবৎ থাকায় টেকনাফ থেকে কোনো জাহাজ ছেড়ে যেতে পারেনি সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্য। দ্বীপের অবস্থান করা পর্যটকেরা আজও ফিরতে পারেনি।

পর্যটক জাহাজ কেয়ারি সিন্দাবাদ ও কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইনের টেকনাফের ব্যবস্থাপক শাহ আলম বলেন, সংকেত বলবৎ থাকার পাশাপাশি সাগর উত্তাল থাকায় আজও কোনো জাহাজ সেন্টমার্টিন যেতে পারেনি। ফলে সেখানে আটকে পড়া পর্যটকদের টেকনাফ-কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম ফেরত আনা সম্ভব হয়নি।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, সতর্ক সংকেত আটকে পড়া পর্যটকেরা ভালো রয়েছেন। অধিকাংশ পর্যটকেরা সমুদ্র সৈকতের কোমর সমান পানিতে স্নান ও সৈকতের বিচরণে মাধ্যমে সময় কাটাচ্ছেন। তবে কোনো ধরনের পর্যটক হয়রানি যাতে না ঘটে তার জন্য বিচকর্মীদের দিয়ে বিশেষ ভাবে নজর রাখা হচ্ছে। সাগর উত্তাল থাকায় যাত্রী নিয়ে কোনো ট্রলার সেন্টমার্টিন থেকে টেকনাফের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে অনুমতি দেননি স্থানীয় কোস্টগার্ড।

]]>
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url