১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১: বাঙালির জীবনে এল নতুন প্রভাত


December 16, 2021 at 06:03AM
from somoynews.tv | RSS Feed

১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১। পূর্বাঞ্চলের কমান্ডার লে. জেনারেল নিয়াজির নির্দেশে পাকিস্তানি বাহিনী ভোর পাঁচটা থেকে যুদ্ধ-বিরতি শুরু করে।

এদিন সকাল ৮টায় নিয়াজি ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রধানের কাছে আত্মসমর্পণের সর্বশেষ মেয়াদ আরও ছয় ঘণ্টা বাড়ানোর অনুরোধ করেন। বেলা ৯টায় যৌথ বাহিনীর ডিভিশনাল কমান্ডার জেনারেল নাগরার বার্তা নিয়ে মিরপুর ব্রিজের এপার থেকে ওপারে নিয়াজির হেড কোয়ার্টার অভিমুখে আত্মসমর্পণের নির্দেশনা নিয়ে সাদা পতাকা উড়িয়ে জিপে করে রওনা হন ভারতীয় ও বাংলাদেশ বাহিনীর দু’জন অফিসার।

বেলা একটা নাগাদ কলকাতা থেকে ঢাকা এসে পৌঁছান যৌথ বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল জ্যাকব। দুপুরের পর জেনারেল হেড কোয়ার্টারে বসে আত্মসমর্পণের দলিল তৈরির বৈঠক। পাকিস্তান পক্ষে নিয়াজি, রাও ফরমান আলী ও জামশেদ এবং বাংলাদেশ পক্ষে জ্যাকব, নাগরা ও কাদের সিদ্দিকী উপস্থিত থাকেন। সিদ্ধান্ত হয় দলিলে স্বাক্ষর করবেন বিজয়ী বাহিনীর পক্ষে পূর্বাঞ্চলীয় ভারতীয় ও বাংলাদেশ বাহিনীর জয়েন্ট কমাডিং ইন চিফ লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা এবং বিজিত বাহিনীর পক্ষে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার লে. জেনারেল এ. এ. কে. নিয়াজি।

আরও পড়ুন: ১৫ ডিসেম্বর: পাক বাহিনীর ব্যাপক বিপর্যয়, মুক্ত হয় চার জেলা

ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই জেনারেল অরোরা পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য বিমান ও নৌবাহিনীর চিফ অব স্টাফসহ কলকাতা থেকে ঢাকায় পৌঁছান। জেনারেল নিয়াজি অভ্যর্থনা জানান যৌথ বাহিনীর কমান্ডারকে। বিকেল পৌনে ৫টায় পরাজিত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার লে. জেনারেল এ. এ. কে. নিয়াজি রেসকোর্স ময়দানে এলেন। বিকেল ৫টায় জেনারেল নিয়াজি ও যৌথ বাহিনীর অধিনায়ক লে. জেনারেল
জগজিৎ সিং অরোরা এগিয়ে গেলেন রেসকোর্স ময়দানে রাখা একটি টেবিলের দিকে। জেনারেল অরোরা বসলেন টেবিলের ডান দিকের চেয়ারে। বাম পাশে বসলেন জেনারেল নিয়াজি। দলিল আগে থেকেই তৈরি করা ছিল।

জেনারেল অরোরা স্বাক্ষর করার জন্য দলিল এগিয়ে দেন নিয়াজির দিকে। নিয়াজি দলিলে স্বাক্ষর করে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নিলেন স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশকে। নয় মাসের দুঃস্বপ্নের অবসান ঘটিয়ে বাঙালি জাতির জীবনে এল নতুন প্রভাত। এলো হাজার বছরের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।

]]>
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url