আপনালয় খুঁজে পেল ওরা ৬ জন
November 19, 2021 at 01:14AMfrom JUGANTOR

আপনালয় খুঁজে পেল ওরা ৬ জন
সারাদেশ
মহিউদ্দিন মিশু, আখাউড়া থেকেমৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ডরিজাতপুর গ্রামের মানিক মিয়া ছেলে শাহজাহান মিয়া ওয়াজ মাহফিলে যাওয়ার কথা বলে তিন বছর আগে নিখোঁজ হয়। স্বজনরা অনেক খুঁজেও তার সন্ধান পায়নি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহজাহানকে এক হাত ও এক কান ক্ষত (অঙ্গহানি) অবস্থায় ফিরে পায় তার পরিবারের লোকজন।
অপরদিকে নয় বছর আগে হারিয়ে যায় ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার মুন্সীনোয়াদ্ধা গ্রামের বিরিচ খানের মেয়ে রীনা বেগম। তাকে ফিরে পায় তার মা জাহেনা বেগম ও মেয়ে শিফা মণি। শাহজাহান ও রীনা বেগমের মতো আরও চার বাংলাদেশি দেশে ফিরে পেল আপনালয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে আখাউড়া-আগরতলা সীমান্ত দিয়ে ত্রিপুরার আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনার ও আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজ নিজ পরিবারের কাছে তাদের হস্তান্তর করেন।
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের মমতাজের ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীন জিয়ারুল সাত বছর আগে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। তার স্বজন রাজ্জাক জানান, বগুড়া থেকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের ত্রিপুরায় কিভাবে পৌঁছাল সেটা নিয়ে তারাও আশ্চর্য।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার চরকালী বাজাইল গ্রামের ছমেদ আলীর মেয়ে আল্পনা বেগম। তার ভাই দুলাল জানান, নয় বছর আগে হঠাৎ করে একদিন তাদের বোন নিখোঁজ হন। দুই বছর আগে স্থানীয় থানার মাধ্যমে জানতে পারেন আগরতলায় মানসিক হাসপাতালে আল্পনা চিকিৎসাধীন আছেন।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ভাস্করটিলা গ্রামের হেলাল মিয়ার স্ত্রী হানিফা আক্তার। তার ছেলে ইয়াছিন জানান, চার বছর আগে সে মাকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। মানসিক ভারসাম্যহীন মাকে হারিয়ে অসহায় স্বজনরা। পরে পুলিশ খুঁজে নিতে বাড়িতে গেলে পরিবার জানতে পারে আগরতলায় আছেন তার মা।
জামালপুর জেলা সদরের নারিকেলি গ্রামের নবীর উদ্দিনের ছেলে মানিক মিয়া। তাকেও ফিরে পায় পরিবার। কীভাবে ভারত পৌঁছাল জানাতে পারেনি নিতে আসা পরিবারের কেউ।
নিখোঁজ স্বজনদের কাছে পাওয়ার ব্যাকুলতা আর বাঁধভাঙা খুশি যেন কোনো বাধাই মানছিল না। সকাল থেকেই ত্রিপুরা সীমান্তের এপারে আখাউড়া ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের নোম্যান্সল্যান্ডে অপেক্ষা করছিলেন পরিবারের স্বজনরা।
অপেক্ষার প্রহর ভেঙে দুপুর ঠিক ১টার দিকে ভারতের ত্রিপুরার আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনার জোবায়েদ হোসেন এক এক করে বাংলাদেশিদের আখাউড়া-আগরতলা নোম্যান্সল্যান্ডে নিয়ে আসেন।
নোম্যান্সল্যান্ডে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেমানা আক্তারের মাধ্যমে নিজ পরিবারের কাছে তাদের স্বজনদের তুলে দেন। এ সময় সুস্থ হয়ে আসা স্বজনরা পরম আদরে বুকে টেনে নেন তাদের। এ সময় স্বজনদের আনন্দ অশ্রু সবার চোখে।
এ সময় নোম্যান্স ল্যান্ডে ভারতের ত্রিপুরাস্থ বাংলাদেশ সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন ছাড়াও সহকারী হাইকমিশনের প্রথম সচিব মো. রেজাউল হক চৌধুরী, প্রথম সচিব, স্থানীয় কমিশনের এস এম আসাদুজ্জামান, বিএসএফ আগরতলা কোম্পানি কমান্ডার রাজ কুমার, বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আক্তার, আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাইফুল ইসলাম, বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মসূচি প্রধান শরিফুল হাসান, আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান, ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ মো. আব্দুল হামিদ, মানবাধিকার কর্মী সৈয়দ খায়রুল আলম।