বগুড়ায় নবান্ন উৎসব মাছের মেলা

November 19, 2021
from JUGANTOR

বগুড়ায় নবান্ন উৎসব মাছের মেলা

বগুড়ায় নবান্ন উৎসব মাছের মেলা

খবর

বগুড়া ব্যুরো

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নবান্ন উৎসব উপলক্ষ্যে অগ্রহায়ণের প্রথমদিন বৃহস্পতিবার বগুড়ার দুপচাঁচিয়া, শিবগঞ্জ ও নন্দীগ্রাম উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব মেলায় হরেক প্রজাতির বড় বড় মাছ বিক্রি হয়। এ সময় গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে মেয়ে, জামাই, নাতি-নাতনি ও আত্মীয়-স্বজনকে মেলার মাছ দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।

দুপচাঁচিয়া উপজেলার ফেঁপিড়া, সাবলা, গয়াবান্ধা, খানপুর, সরঞ্জাবাড়ী, কইল, আমষট্ট, মাজিন্দা, গোবিন্দপুর, ও উপজেলা সদরসহ এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন নবান্ন উৎসব পালন করেন। প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায় আতপ চাল বেটে পানি দিয়ে গুলিয়ে আল্পনা আঁকেন, উঠান ও ধানের গোলায় গোবর গুলিয়ে লেপ দেন। সকালে ছোট ছোট ছেলের দল স্নান (গোসল) করে নতুন ধুতি পরে বয়স্ক লোকদের সঙ্গে জমিতে যায়। সেখান থেকে তিন গোছা ধান কেটে তাতে সিঁদুর, কাজলের ফোঁটা, কলাপাতা দিয়ে ঢেকে মাথায় করে বাড়ির আঙ্গিনায় নিয়ে আসে। এ সময় গৃহবধূরা শঙ্খ বাজিয়ে উলুধ্বনি দেন। এ ধরনের অনুষ্ঠানকে এ অঞ্চলের হিন্দু সম্প্রদায়ে লোকজন আগকাটা (প্রথম ধান কাটা) বলে থাকেন। তারপর কাটা ধানগাছের গুচ্ছ ঘরের ছাদের তীরে আটকিয়ে রাখা হয়। এটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি ঐতিহ্য।

উপজেলার সরঞ্জাবাড়ী গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক পরিতোষ মণ্ডল জানান, আবহমান কাল থেকেই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এ নবান্ন উৎসবটি ধুমধামের সঙ্গে পালন করে আসছেন। এ নবান্ন উৎসব উপলক্ষ্যে দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদরে বড় বড় মাছের মেলা বসে। সাধ্যমতো লোকজন রকমারি সবজিসহ বড় বড় মাছ কিনে হরেক রকম সুস্বাদু রান্না, নতুন ধানের চালের পায়েস, পিঠা, পুলি তৈরি করে মেয়ে-জামাই, নাতি-নাতনিসহ আত্মীয়-স্বজনদের আপ্যায়ন করেন। দুপচাঁচিয়া মাছ বাজারে ২০ কেজি ওজনের কাতলা তোলা হয়েছিল। মাছ বিক্রেতা প্রতি কেজি ১১০০ টাকা দাবি করলেও পরে ৮০০ টাকা কেজি দরে কেটে বিক্রি করেন।

এক কেজি আলু ৪০০ টাকা : নবান্ন উৎসব উপলক্ষ্যে শহরের ফতেহআলী ও রাজাবাজারে অন্যান্য নতুন শাক-সবজির পাশাপাশি পাকরি আলু উঠেছিল। তবে দাম ছিল আকাশ ছোঁয়া।

রাজাবাজারের আড়তদার ও সাধারণ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পরিমল প্রসাদ রাজ জানান, নবান্ন উৎসবের দিন পরিবারের মুরব্বি বা বৌ-ঝিরা দিনভর উপোস করেন। নতুন আলু, কপি, শিমসহ বিভিন্ন শাক-সবজি দিয়ে তরকারি রান্না করা হয়। একটি বড় প্লেটে এসব খাবার সাজানো হয়। এরপর প্রথমে পূর্বপুরুষদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে তাদের উদ্দেশে ওই খাবার উৎসর্গ করা হয়। শেষে উপবাসে থাকা নারী বা পুরুষদের খাবার খেয়ে উপবাস ভঙ্গ করেন। তিনি আরও জানান, প্রতিবছর নবান্নের দিনে বাজারে নতুন আলু ওঠে এবং উচ্চ দরে বিক্রি হয়ে থাকে। বৃহস্পতিবার শহরের দুটি বড় বাজারে তিন থেকে চার মণ নতুন পাকরি আলু বিক্রির জন্য আনা হয়েছিল। প্রতি কেজি আলু ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ আলু কিনতে অনেকে বাজারে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। প্রথা পালনে অনেকে উচ্চ দামে আলু কিনেছেন।

ফতেহ আলী বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী শামসুল হক ও রাজাবাজারের বিনয় রাজ জানান, নবান্নের দিন আলুর দাম বেশি হয়। এ দিনের উৎসবকে সামনে রেখে কৃষকরা অধিক লাভের আশায় সামান্য কিছু আলু চাষ করেন।

© JUGANTOR.COM

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url